ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল নেতাদের উপর লাগাতার হামলার আবহে ফের রক্তাক্ত হল রাজ্য। ভাঙড়ের রক্তাক্ত ঘটনার তিন দিনের মধ্যেই এবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় (Sainthia Death) গুলিতে খুন হলেন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি পীযূষ ঘোষ (Piyush Ghosh)। রবিবার ভোররাতে নিজের বাড়ির এক কিলোমিটার দূরে রাস্তায় তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মাথার পেছনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।
দেহের পাশেই পড়ে ছিল বাইক। পুলিশের অনুমান, পরিচিত কাউকে দেখে বাইক থামিয়ে কথা বলছিলেন তিনি, তখনই অতর্কিতে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। গুলি মাথা ভেদ করে কপাল দিয়ে বেরিয়ে যায়। খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার রাতে রাত ১২টা নাগাদ একটি ফোন আসে পীযূষবাবুর কাছে। তারপরই তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ভোরে খবর আসে তাঁর মৃত্যুর। ক্ষুব্ধ পরিবার জানিয়েছে, প্রথমে সাহায্য চাইতে গিয়ে কাউকে না পেয়ে নিজেরাই দেহ নিয়ে যান বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে।
আরও পড়ুনঃ অধ্যাপকের অশালীন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, এবার এসএফআই-র হাতে ধৃত
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জন মহিলা-সহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। নিহত নেতার পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হচ্ছিলেন পীযূষ। এর আগে নির্বাচনের সময় তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হুমকি দিয়ে চিরকুট পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
পীযূষ ঘোষ ছিলেন শ্রীনিধিপুর অঞ্চলের সভাপতি। পরিবার বলছে, বালি ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরেও এই খুন হয়ে থাকতে পারে। মৃত নেতার স্ত্রী পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, দুই সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
পরপর তিন দিনে তিন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশের কাছে এই খুনের রাজনৈতিক যোগের তদন্তেও জোর দেওয়া হচ্ছে।