রাজনীতি
শিক্ষা-চাকরি নিয়ে প্রশ্ন, বিধানসভায় হট্টগোল, বিজেপি বিধায়কের সাসপেনশন ঘিরে তপ্ত রাজনীতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ সপ্তাহের শুরুতেই ফের উত্তেজনা ছড়াল রাজ্য বিধানসভায় (West Bengal Assembly)। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বক্তব্য রাখতে শুরু করতেই হইচই শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা (BJP MLAs)। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কুমারগ্রামের (Kumargram) বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও (Manoj Orao)–কে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (Biman Banerjee) বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করেন।
জানা গিয়েছে, এদিন বিজেপির শিক্ষক সেলের বিধায়কেরা (BJP Teacher Cell MLAs) মুলতুবি প্রস্তাব জমা দেন। তাঁরা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের অবনতির বিষয়টি বিধানসভায় (Assembly) আলোচনার দাবি তোলেন। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে চাকরি হারানো প্রায় ২৬ হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু অধ্যক্ষ জানান, বিষয়টি বিচারাধীন, বিধানসভায় এ নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। তবে বিজেপির বক্তব্য, এর আগে অনেক বিচারাধীন বিষয় নিয়েই বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে, তাহলে এই বিষয়ে বাধা কোথায়?
আরও পড়ুনঃ জি৭ সম্মেলনের আগে সাইপ্রাস সফরে বিশেষ সম্মান, মোদীর কূটনৈতিক সাফল্য
এরপর বিজেপি বিধায়করা প্রবল স্লোগান দিতে শুরু করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রসঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন বিজেপির বিধায়কদের হইচই আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার মনোজ ওঁরাওকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন। বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তাঁকে জোর করে মার্শাল (Marshals) দিয়ে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বিজেপির দাবি, ন্যায্য প্রশ্ন তুললেই তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরই প্রতিবাদে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপি বিধায়করা। পরে বিধানসভার সিঁড়িতে বসে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। তুলসি গাছ সামনে রেখে তাঁদের অবস্থান ছিল প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ। বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, “বিচার চাই বললেই আমাদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
বিধানসভার স্পিকার এখনো স্পষ্ট করেননি, মনোজ ওঁরাও কতদিনের জন্য সাসপেন্ড থাকবেন। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাঁরা আন্দোলন জারি রাখবেন। সব মিলিয়ে সোমবার বিধানসভায় একাধিকবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রাজ্য।
