ভাইরাল খবর
‘মৎস্যকন্যা শিশু’র জন্ম পশ্চিমবঙ্গে, চিকিৎসকদের স্তব্ধ করে দিয়ে চার ঘণ্টায় জীবনাবসান
ডিজিটাল ডেস্ক: পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলার কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে জন্ম নিল এক বিরল শারীরিক গঠনের শিশু, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘মারমেড বেবি’ (Mermaid Baby)। চিকিৎসকদের ভাষায়, এই অসাধারণ জৈবিক অবস্থাকে ‘সিরেনোমেলিয়া’ (Sirenomelia) বা ‘মৎসকন্যা সিনড্রোম’ (Mermaid Syndrome) বলা হয়, যার ফলে কোমরের নিচের অংশে দুই পা জোড়া লেগে থাকে মাছের লেজের মতো আকৃতিতে।
ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়া থানার করজগ্রামের বাসিন্দা এক গৃহবধূর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রসববেদনা শুরু হলে ওই গর্ভবতী মহিলাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। রাত প্রায় ১টা নাগাদ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। নবজাতিকার ওজন ছিল প্রায় আড়াই কেজি। শিশুটিকে দেখেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হতবাক হয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ “ভারতে ২৪ কোটি গর্বিত মুসলমান বাস করেন”—সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ওয়েইসির
এই বিরল শিশুর প্রসঙ্গে কাটোয়া হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল (Dr. Rabindranath Mondal) জানান, “আমার ৩৩ বছরের পেশাগত জীবনে এমন ঘটনা প্রথম। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে এমন শিশুর জন্ম এই প্রথম। ‘মারমেড বেবি’ সবসময়ই কন্যা সন্তান হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাঁচে না।” তিনি আরও বলেন, “জন্মের পর হাত-পা ছুড়ছিল শিশুটি, চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও বুধবার ভোরেই শিশুটির মৃত্যু হয়।”
জানা গেছে, করজগ্রামের ওই মহিলার এটি ছিল দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তানটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই জন্মেছিল এবং বর্তমানে সে সুস্থ। মহিলার স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ও কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সিরেনোমেলিয়া’ একটি জিনগত বা ভ্রূণগত ত্রুটি, যা একাধিক শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। বিদেশে এই ধরনের শিশু জন্মের উদাহরণ মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও, বাংলার জেলা হাসপাতাল পর্যায়ে এমন নজির বিরল। বছর আটেক আগে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এমন একটি শিশুর জন্ম হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটি আর না থাকলেও, তার জন্ম ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে এক ঐতিহাসিক নজির।
