বাংলাদেশ
বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ, আলিপুরদুয়ারে মোদির মুখে কূটনৈতিক বার্তা আশঙ্কা
ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ (Manikganj) জেলায় সদরের একটি কালীমন্দিরে (Kali Temple) ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ফের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা এই আগুন লাগিয়েছে। প্রশাসন এখনও নিশ্চিত নয়—এটি নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পেছনে নাশকতার ছক রয়েছে।
তবে এই ঘটনা নতুন নয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই যশোর জেলার অভয়নগর (Abhaynagar, Jessore) এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua community) অন্তত কুড়িটির মতো বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। চলছিল বার্ষিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। সেই সময় দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষের জন্য রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেয়। লুটপাটেরও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার পর অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ (All India Matua Mahasangh) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-কে একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের আবেদন জানায়। মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে গিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor)-এর পর এটাই মোদির প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফর। এই সফরে তাঁর একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা আলিপুরদুয়ারেই। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ভাষণে তিনি কেবল বাংলার উন্নয়ন এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগই তুলবেন না, বরং নাম না করে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও আক্রমণের মুখে আনতে পারেন।
আসলে এই সফরের ঠিক আগে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লালমনিরহাট (Lalmonirhat) জেলার একটি পুরনো সামরিক বিমানঘাঁটি পুনরায় চালু করা হবে। ঢাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত এই ঘাঁটিটি এবার চিনের সহায়তায় পুনরায় চালু করতে চাইছে ইউনুস সরকার (Mohammad Yunus Government)। বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লির কাছে, কারণ লালমনিরহাট থেকে ভারতের ‘চিকেন নেক’ (Chicken Neck) এলাকার দূরত্ব মাত্র ১৫০ কিমি।
আরও পড়ুনঃ আবহাওয়ার কারণে সিকিম সফর বাতিল, আলিপুরদুয়ারেই মোদির কর্মসূচি
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতও ত্রিপুরার কৈলাশহরে (Kailashahar, Tripura) একটি পুরনো বিমানঘাঁটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘাঁটি থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এমনকি রাজধানী ঢাকাও খুব কাছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের একাধিক শীর্ষ মহল থেকে সম্প্রতি যে ভারতবিরোধী মন্তব্য উঠে এসেছে, তা নিয়েও অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের (North-Eastern states of India) ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বারবার মন্তব্য করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস কূটনৈতিক শালীনতা লঙ্ঘন করছেন বলেই মনে করছে ভারত। এমনকি ব্যাঙ্ককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক বৈঠকের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে অযাচিত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের আলিপুরদুয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নাম না করে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও মন্তব্য করবেন বলেই জোর জল্পনা। ভাষণে সরাসরি বাংলাদেশকে নিশানা না করলেও তাঁর বক্তব্যে যে তা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হবে, সে ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত সংশ্লিষ্ট মহল।
