‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দোলাচলে রাজ্যের স্কুলগুলি
Connect with us

কলকাতা

‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দোলাচলে রাজ্যের স্কুলগুলি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে আংশিক স্বস্তি মিললেও, রাজ্যের বহু চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা এখনও কাজে যোগ দিচ্ছেন না। মূল আপত্তি—‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’দের নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ না হওয়া। সেই জট কাটাতে না পারায়, শনিবার রাজ্যের বহু স্কুলে দেখা গেল কার্যত মিশ্র চিত্র। কোথাও শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে ফিরে এলেও, অনেক জায়গায় পুরোপুরি অনুপস্থিত তাঁরা।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত ‘দাগি’ নন এমন শিক্ষকেরা স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। তবে, রাজ্যকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। কিন্তু সেই রায় ঘোষণার পরেও যেহেতু ‘যোগ্য-অযোগ্য’দের তালিকা প্রকাশিত হয়নি, তাই ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ঐক্য মঞ্চ’-এর সদস্যদের অধিকাংশই স্কুলে ফিরতে নারাজ।

আরও পড়ুনঃ বিচারপতি বর্মার বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা: তদন্ত কমিটি দিল্লি পুলিশকে সাফাই দিতে বাধ্য

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম— একাধিক জেলার স্কুলে একই চিত্র। বহু স্কুলেই কার্যত ফাঁকা ক্লাসঘর। কোথাও বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষিকাদের দিয়ে চালানো হচ্ছে ক্লাস, কোথাও আবার বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের সাহায্যে কোনও মতে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় প্রধান শিক্ষকরা স্বীকার করেছেন, শিক্ষক না থাকায় ক্লাস বাতিল করতে হচ্ছে।

Advertisement
ads ads

তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের একটি স্কুলে চাকরি হারানো ৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাই শনিবার কাজে যোগ দেন। হাওড়ার সাঁকরাইল গার্লস স্কুল, বীরভূমের সিউড়ি ও ইলামবাজারের কিছু স্কুলেও শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ক্লাস নিয়েছেন। এমনকি, বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস হাই স্কুলে ‘যোগ্য’ বলে দাবি করা শিক্ষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এক ‘অযোগ্য’ সহকর্মীর সঙ্গে তাঁরা কাজ করতে রাজি নন।

সব মিলিয়ে, ‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক সমাজে অস্থিরতা বজায় থাকছে। আর তার প্রভাব পড়ছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায়। আগামী সোমবার এসএসসি ভবনের সামনে আন্দোলনের ডাকও দিয়েছে ঐক্য মঞ্চ। এখন দেখার, রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

Continue Reading
Advertisement ads