তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য
Connect with us

দুর্ঘটনা

তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকার্য

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা (accident)। বুধবার দুপুরে একটি বিশাল নির্মীয়মাণ গুদামের (godown) ভারী লোহার ছাদ ও বিম আচমকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের তলায় বহু শ্রমিকের চাপা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকার্য চালিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকিদের মধ্যে অন্তত ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক (critical)।

ধ্বংসস্তূপে রক্তমাংসের স্তূপ, নিচে বাঁচার আর্তনাদ
ঘটনাস্থলের দৃশ্য অত্যন্ত শিউরে ওঠার মতো। ভেঙে পড়া ভারী লোহার বিমে লেগে আছে রক্তমাংস, কারও মাথা থেঁতলে গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের (debris) মধ্য থেকে বের হয়ে রয়েছে মানুষের হাত। টন টন কংক্রিটের স্ল্যাব ও লোহার ভারী বিমের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাতর আর্তনাদ এবং বাঁচার আকুল আর্জি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনকে খবর দেন স্থানীয়রা।

উদ্ধারকাজে নামল সেনাবাহিনী ও এনডিআরএফ
বিপর্যয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG)। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকাজে নামানো হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে (Indian Army)। ইস্টার্ন কমান্ডের ৪ কলম জওয়ান, বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার ও সেনা অফিসাররা উদ্ধারকাজে সামিল হয়েছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলও (NDRF) কাজ করছে। আটকে থাকা মানুষদের খুঁজতে ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন (drone)। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেন (hydraulic crane) এবং শক্তিশালী গ্যাসকাটার দিয়ে লোহার বিম কেটে ভেতরে ঢোকার জন্য ভার্টিকাল ড্রিলিং করা হচ্ছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ‘গ্রিন করিডোর’ (green corridor)।

তদন্তে প্রশাসন, পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নবান্ন থেকে নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি নিজে সশরীরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন এবং উদ্ধারকার্য মনিটরিং করেন। তাঁর সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।

Advertisement
ads ads

দুর্নীতির অভিযোগ ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
জানা গিয়েছে, প্রায় এক লক্ষ বর্গফুট এলাকার এই জমিটি পোর্ট ট্রাস্টের, যা লিজে (lease) নিয়ে আলিপুরদুয়ারের এক চা ব্যবসায়ী গুদাম তৈরি করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকেই মূল লোহার কাঠামোটি (structure) অস্বাভাবিকভাবে নড়ছিল এবং সেই গলদ পরীক্ষা করতেই শ্রমিকরা জড়ো হয়েছিলেন, তখনই এই বিপর্যয় ঘটে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বেআইনি নির্মাণকাজ (illegal construction) চালানোর অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তাঁকে দুর্ঘটনাস্থলে ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য নবান্নের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশেষ হেল্পলাইন কন্ট্রোল রুম (control room) খোলা হয়েছে। নম্বরগুলি হল: ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫।

Continue Reading
Advertisement ads