সাহিত্য
বাংলার লোকশিল্পের মঞ্চে উত্তর দিনাজপুরের গর্ব শচীন্দ্রনাথ সরকার
ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ কলকাতার রবীন্দ্র সদনে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘বাংলা দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠান। এই বিশেষ দিনে বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মানিত করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবছর মুখা শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য উত্তর দিনাজপুর জেলার স্বনামধন্য প্রবীণ শিল্পী শ্রী শচীন্দ্রনাথ সরকারকে ‘লালন পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তরফে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তিনিই শচীন্দ্রনাথবাবুর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন।
শচীন্দ্রনাথ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুখা শিল্পকে জাগ্রত ও জীবন্ত করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মুখা নির্মাণ, তার রূপায়ণ এবং সেই শিল্পের সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে তিনি রাজ্যের নানা প্রান্তে কর্মশালা, প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছেন। এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তুলে ধরেছেন তিনি। বাংলার মাটি, লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের সঙ্গে মিশে থাকা এই মুখোশ শিল্প আজও বহু মানুষের জীবিকা এবং আত্মপরিচয়ের আধার হয়ে আছে। সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে শচীন্দ্রনাথ সরকারের অবদান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য।
আরও পড়ুনঃ ‘মুখ্যমন্ত্রীর নববর্ষের গানকে কটাক্ষ’ গানে গানে মমতার শুভেচ্ছা মেনে নেবে না
তার এই বিরল সম্মানে উচ্ছ্বসিত শুধু তাঁর পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মহলই নয়, গর্বিত গোটা উত্তর দিনাজপুর। জেলার সাংস্কৃতিক মহল, বিভিন্ন বিদ্যালয়, শিল্প সংস্থা এবং নাগরিক সমাজ এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষের কাছে এটি এক গর্বের মুহূর্ত—যেখানে তাঁদেরই এক শিল্পী বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় এমন অসামান্য সম্মান অর্জন করলেন।
‘বাংলা দিবস’-এ এমন সম্মান একদিকে যেমন বাংলার লোকসংস্কৃতিকে মর্যাদা দেয়, তেমনই বাংলার মাটির সন্তানদের আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর পথও প্রশস্ত করে। শচীন্দ্রনাথ সরকারের মতো শিল্পীদের স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বাংলার মাটি ও সংস্কৃতির দিকে ফিরে তাকাতে।
