ভাইরাল খবর
স্বামীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা নয়, পর্ন দেখার অধিকার স্ত্রীরও আছে—মাদ্রাজ হাইকোর্ট
ডিজিটাল ডেস্কঃ মাদ্রাজ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, স্ত্রীর একান্তে পর্নোগ্রাফি দেখা বা হস্তমৈথুন করা স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে না। আদালতের মতে, এটি একজন নারীর ব্যক্তিগত অধিকার এবং এটি কোনওভাবেই বৈবাহিক সম্পর্কে নিষ্ঠুরতার শামিল নয়।এই রায় এসেছে এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে এক ব্যক্তি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন এই যুক্তিতে যে তার স্ত্রী পর্নোগ্রাফি দেখেন এবং হস্তমৈথুনের প্রতি আসক্ত। তবে পারিবারিক আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর ওই ব্যক্তি হাইকোর্টে আপিল করেন, কিন্তু সেখানেও তিনি ন্যায় পাননি।
বিচারপতি জি.আর. স্বামীনাথন এবং বিচারপতি আর. পূর্ণিমার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানায়, “যখন পুরুষদের ক্ষেত্রে হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়, তখন নারীদের ক্ষেত্রেও তা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। এটি কোনোভাবেই লজ্জার বিষয় হতে পারে না।” বিচারপতিরা আরও বলেন, “স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিষ্ঠুরতা তখনই প্রমাণিত হয়, যখন এক পক্ষের আচরণ অন্য পক্ষের প্রতি মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন সৃষ্টি করে। কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের এমন কিছু অভ্যাস, যা স্বামীর প্রতি কোনো সরাসরি ক্ষতি করে না, তা নিষ্ঠুরতার আওতায় পড়বে না।”
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তা, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ওই দম্পতি। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল এবং তাদের কোনও সন্তান হয়নি। ২০২০ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনে সমস্যা শুরু হয় এবং আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রীর পক্ষ থেকে দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আদালতে আবেদন করা হলে, স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মামলা করেন। স্বামীর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী পর্নোগ্রাফি দেখার প্রতি আসক্ত ছিলেন, ঘরোয়া কাজ এড়িয়ে চলতেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে ব্যস্ত থাকতেন। তবে আদালত জানায়, স্বামী তার অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যদি কোনও ব্যক্তিগত কাজ অন্যজনকে সরাসরি প্রভাবিত না করে, তাহলে সেটিকে বৈবাহিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে ধরা হবে না। শুধু মাত্র পর্নোগ্রাফি দেখা বা হস্তমৈথুন করার মতো ব্যক্তিগত অভ্যাসের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই বলছেন, এটি নারীর ব্যক্তিগত অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আদালতের এই রায় সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
