দেশের খবর
ভারতে কি বন্ধ হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম? মোদির ভিডিও ডিলিট কাণ্ডে মেটাকে আলটিমেটাম
ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক (Facebook) ও ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও মেটা (Meta)-র মধ্যে টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে। সরকারের দাবি, শুধুমাত্র সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ যথেষ্ট নয়, মেটার প্রধান নির্বাহী (CEO) মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg)-কে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে সংস্থার ‘সেফ হারবার’ (Safe Harbour) আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে বলে সরকারি মহলে ইঙ্গিত মিলেছে।
জেন-জি (Gen Z) পড়ুয়াদের উদ্দেশে তৈরি প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও ভুলবশত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। পরে মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত (Technical) বা পরিচালনাগত (Operational) ত্রুটির কারণে হয়েছে এবং সংস্থা ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়। তবে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্রের একাংশ।
সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর কনটেন্ট (Content) সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংস্থার সর্বোচ্চ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনাও প্রয়োজন।
সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার গ্লোবাল পলিসি (Global Policy) প্রধানকে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্থাকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কেন্দ্রের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি (Official Notification) প্রকাশ করা হয়নি।
সেফ হারবার কী?
তথ্যপ্রযুক্তি আইন (Information Technology Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মগুলিকে ‘সেফ হারবার’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি আইনি দায় বহন করতে হয় না। তবে এই সুরক্ষা প্রত্যাহার হলে ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট নিয়েও সংস্থাকে আইনি জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে।
তাহলে কি ভারতে বন্ধ হবে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম?
বর্তমানে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম ভারতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। সেফ হারবার সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও তার অর্থ এই নয় যে পরিষেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বরং এতে মেটার আইনি দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক (Regulatory) বাধ্যবাধকতা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ, মোদির ভিডিও বিতর্ক ঘিরে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে চাপানউতোর বাড়লেও, এই মুহূর্তে ভারতে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম বন্ধ হওয়ার বিষয়ে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা হয়নি।
