দেখা যাচ্ছে, হেলিকপ্টারের জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট। সিটে বসেই স্ত্রীকে উদ্দেশ করে রাগত ভঙ্গিতে কথা বলছেন, মাঝে আঙুল উঁচিয়েও কিছু বলছেন। মেলানিয়া অবশ্য ঠান্ডা মাথায় হাত নাড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছেন—এ যেন এক সাধারণ দাম্পত্য কলহ (marital conflict)।
তবে এটাই কি আদৌ বিবাহ–সংক্রান্ত ঝামেলা? না কি অন্য কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণে এমন চটে যান ট্রাম্প?
কী বলছে লিপ রিডিং?
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মতে, ঘটনাটি আসলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ঘটে যাওয়া কিছু ত্রুটির কারণে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ (The Guardian)-এ প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, লিপ রিডার জেরেমি ফ্রিম্যানের (Jeremy Freeman) দাবি, ট্রাম্প মেলানিয়াকে বলেন, “এটা তুমি কীভাবে করলে?”
অন্য এক লিপ রিডার নিকোলা হিকলিং (Nicola Hickling) বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, “ওরা তোমায় আঘাত করার চেষ্টা করেছে। আমি ছাড়ব না।” মেলানিয়া উত্তর দেন, “না, না, এটা ঠিক নয়। আমাদের নিরাপদে থাকতে হবে।” কিন্তু ট্রাম্প তাতে রাজি হননি, বলেন, “ওরা শেষ। পাল্টা দিতে হবে।”
কী হয়েছিল সেদিন?
মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রপুঞ্জে ঢোকার সময় ট্রাম্প দম্পতির সামনে আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় চলমান সিঁড়ি (escalator)। ভাষণের সময় বিকল হয়ে যায় টেলিপ্রম্পটার (teleprompter), এমনকি মাইক্রোফোনও (microphone) কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
ট্রাম্প দাবি করেন, এসব ইচ্ছাকৃত—তাঁকে হেয় (humiliate) করার ষড়যন্ত্র (conspiracy)। আর এই হতাশা থেকেই তিনি রাগ প্রকাশ করেন স্ত্রী মেলানিয়ার সামনে।
শরীরী ভাষায় অস্বস্তি
হেলিকপ্টার থেকে নামার পর সাউথ লনে (South Lawn) অবশ্য দুজনে হাত ধরেই হাঁটেন। কিন্তু শরীরের ভাষা (body language) ছিল বেশ কাঠিন্যপূর্ণ, যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন।
এমন দৃশ্য অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্প-মেলানিয়া সম্পর্ক নিয়ে অনেক চর্চা হয়েছে। যেমন, একবার জনসমক্ষে ট্রাম্প হাত ধরতে চাইলে মেলানিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার সময় চুমু খেতে গেলে টুপির আড়ালে মুখ সরিয়ে নেন ফার্স্ট লেডি।
এইসব পুরনো মুহূর্ত ফের আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন ভিডিয়ো সামনে আসতেই।