ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের চরমে উত্তেজনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে চুক্তিতে সম্মতির জন্য দু’মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমে কঠোর অবস্থান নিলেও ট্রাম্পের চিঠির পর কিছুটা নমনীয় হয়েছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েল একাধিকবার ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালিয়েছে, যা আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে।
আরও পড়ুনঃ নাতির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তুলে দিলেন অন্যের হাতে!
২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে তেহরান পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন সীমিত রাখতে রাজি হয়েছিল বিনিময়ে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার শর্তে। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই চুক্তি বাতিল করেন, অভিযোগ করেন যে এটি আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী। পরবর্তী সময়ে জো বাইডেন প্রশাসন আবার সমঝোতার পথ খুললেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা শাসনে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইরান ৬০ শতাংশ শুদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও তেহরানের দাবি, এটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে করা হচ্ছে। তবে পশ্চিমা শক্তিগুলোর উদ্বেগ, এই উন্নয়ন ইরানকে দ্রুত পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরান সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, নাকি সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।