ভাইরাল খবর
এআই অডিও বলে দাবি ঘনিষ্ঠের, অনুব্রতর ফোন-কাণ্ডে নতুন বিতর্কের মুখে তৃণমূল
ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুর থানার আইসি (IC) লিটন হালদারকে (Liton Halder) ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)-এর বিরুদ্ধে যখন পুলিশ বিভাগ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন, তখন এই বিতর্কে নতুন মোড় আনলেন কেষ্ট ঘনিষ্ঠ দেবব্রত সরকার (Debabrata Sarkar)। তাঁর দাবি, “অনুব্রত ওই ফোন করেননি, ভাইরাল অডিও আসলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI-তে তৈরি। পুরো বিষয়টিই ষড়যন্ত্র।”
রবিবার সকাল ১১টায় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) কার্যালয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি নিজে না গিয়ে পাঠান তাঁর দীর্ঘদিনের সহচর দেবব্রত সরকারকে। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবব্রত বলেন, “ওই অডিওতে যেটা শোনা যাচ্ছে, সেটা কেষ্টদার কণ্ঠ নয়। ওটা কেউ AI দিয়ে বানিয়ে ছড়িয়েছে। বিজেপি (BJP) বা দলের কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করে থাকতে পারে।”
আরও পড়ুনঃ তীব্র ঊর্ধ্বমুখী কোভিড গ্রাফ, কেন্দ্র জানাল বাড়ছে সক্রিয় সংক্রমণ
তবে এখানেই শেষ নয়। অনুব্রত মণ্ডল যে ফোন করেননি, সেই দাবি ঘনিষ্ঠরা করলেও প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কেন তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চাইলেন? দেবব্রতের সাফাই, “দল (TMC) যা বলেছে, উনি তাই করেছেন। অনুব্রতদা একজন অনুগত কর্মী। ব্যক্তিগত কিছু নয়, দলীয় সিদ্ধান্তেই ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।”
এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের প্রশ্ন—AI দিয়ে বানানো অডিও যদি সত্যিই হয়, তাহলে এতদিন চুপ ছিলেন কেন? তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠরা কেন থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালেন না? আবার অনুব্রত মণ্ডল যদি সত্যিই ফোন না করে থাকেন, তাহলে পুলিশের এফআইআরের পর তিনি নিজে পাল্টা মামলা করেননি কেন?
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বোলপুর থানায় দায়ের হয়েছে অনুব্রতর বিরুদ্ধে এফআইআর। অভিযোগের ভিত্তিতে ৪টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে দু’টি জামিন অযোগ্য। পুলিশের তরফে তাঁকে তলব করা হলেও অসুস্থতার অজুহাতে তিনি অনুপস্থিত থাকেন।
তবে এই নতুন AI অডিও তত্ত্ব সামনে আসায় পুরো বিতর্কে জট আরও গভীর হয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাঁদের মতে, যদি এটি সত্যিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার হয়, তাহলে তারও তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি শুধুই দায় এড়ানোর অজুহাত বলেই গণ্য করা হবে।
