বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কেরল-মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক সংক্রমণ
Connect with us

দেশ

বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, কেরল-মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক সংক্রমণ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ হঠাৎ করেই দেশে ফের বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ। ফের উদ্বেগের বাতাবরণ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ মে-র মধ্যে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৭৫২ জন। বর্তমানে দেশে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১,০১০। বিশেষজ্ঞরা যদিও ভয় পাওয়ার কোনও কারণ দেখছেন না, তবে সাধারণ মানুষ নতুন করে সতর্ক না হলে বিপদ বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এই মুহূর্তে ভারতে কোভিড-১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের অন্তত চারটি উপপ্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই NB.1.8.1 ও LF.7 নামে দুই নতুন ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত হয়েছে। “ইন্ডিয়ান SARS-COV-2 জিনোমিক্স কনসোর্টিয়াম” (INSACOG) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এই দুটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। মূলত চিন ও আশপাশের কয়েকটি এশীয় দেশে এই প্রজাতিগুলির সংক্রমণ বেশি হলেও ভারতে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ আক্রান্তের শরীরে মিলেছে JN.1 ভ্যারিয়েন্ট। এক সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৫৩ শতাংশ করোনা রোগীর মধ্যে রয়েছে এই JN.1 স্ট্রেন। পাশাপাশি ২৬ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন BA.2 ভ্যারিয়েন্টে এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্য ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃড্রোন আতঙ্কে কাঁপছে উত্তরবঙ্গ? রায়গঞ্জের আকাশে অজানা আলো ঘিরে চাঞ্চল্য

সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে কেরল (Kerala)। রাজ্যটিতে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ৪৩০ জন। এরপর রয়েছে মহারাষ্ট্র (209), দিল্লি (104), গুজরাত (83), এবং তামিলনাড়ু (69)। পশ্চিমবঙ্গেও ফের থাবা বসিয়েছে করোনা। রাজ্যে বর্তমানে ১২ জন কোভিড পজিটিভ।

Advertisement
ads

স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিং (Pankaj Singh) বলেন, “এই মুহূর্তে আক্রান্তদের উপসর্গ সাধারণ ভাইরাল ফিভারের মতো। ভয়ের কিছু নেই। তবে সমস্ত হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বেড, ওষুধ ও অক্সিজেন নিশ্চিত রাখতে বলা হয়েছে।”

তবে চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, RT-PCR পরীক্ষার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণ সংখ্যাও বাড়ছে। অনেকেই এখন সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর-কাশির উপসর্গ দেখলেই করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। এতে পরিসংখ্যানে কিছুটা হঠাৎ বৃদ্ধি ধরা পড়লেও বাস্তবিক উদ্বেগের কিছু নেই।

স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেও এখনও পর্যন্ত করোনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দেশে ৬। অর্থাৎ মৃত্যুহার অনেকটাই কম।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, এখন প্রয়োজন শুধু সচেতনতা ও কোভিড প্রোটোকল মেনে চলা। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়।
তবে দীর্ঘদিন পরে মাস্কমুক্ত পরিবেশে নিঃশ্বাস নেওয়ার যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা হারানোর আশঙ্কা কি তৈরি হচ্ছে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement