'কেয়া পাতার নৌকো'-র মাঝি চলে গেলেন, প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘কেয়া পাতার নৌকো’-র মাঝি চলে গেলেন, প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় (Prafulla Roy) আর নেই। এক বর্ষার দুপুরে প্রয়াত হলেন ‘কেয়া পাতার নৌকো’ (Keya Patar Nouko) এবং ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (Mand Meyer’s Upakhyan)-এর স্রষ্টা। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ভর্তি ছিলেন কলকাতার (Kolkata) একটি বেসরকারি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সকালেই সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই মহীরুহ।

প্রফুল্ল রায়ের (Prafulla Roy) ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। দিন দিন শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও অবশেষে বৃহস্পতিবার তিনি পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে।

১৯৩৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে জন্ম প্রফুল্ল রায়ের। ১৯৫০ সালে সপরিবারে চলে আসেন কলকাতায়। দেশভাগের যন্ত্রণা ও উদ্বাস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখার মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে। জীবনের নানা বাঁক ঘুরে সংগ্রামী মানুষের কথা তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়।

১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পূর্ব পার্বতী’ (Purba Parbati)। এরপর একের পর এক সৃষ্টি করেন ‘কেয়া পাতার নৌকো’ (Keya Patar Nouko, 2003), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (Shatdharay Boye Jai, 2008), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (Uttal Samayer Itikatha, 2014), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (Nona Jol Mithe Mati)। তাঁর লেখা দেড় শতাধিক উপন্যাস এবং গল্পগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে এক বিশাল সম্পদ।

Advertisement
ads

তাঁর অনেক উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছে জনপ্রিয় সিনেমা ও ধারাবাহিক। যেমন ‘এখানে পিঞ্জর’ (Ekhane Pinjor, 1971), ‘বাঘবন্দি খেলা’ (Baghbandi Khela, 1975), ‘মোহনার দিকে’ (Mohnar Dike, 1984), ‘আদমি আউর আউরত’ (Admi Aur Aurat, 1984), ‘একান্ত আপন’ (Ekanto Apon, 1987), ‘চরাচর’ (Charachar, 1994), ‘টার্গেট’ (Target, 1997), ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (Mand Meyer’s Upakhyan, 2003), ‘ক্রান্তিকাল’ (Krantikal, 2005)।

বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন প্রফুল্ল রায়। ২০০৩ সালে ‘ক্রান্তিকাল’ (Krantikal) উপন্যাসের জন্য তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার (Sahitya Akademi Award)। এছাড়াও পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার (Bankim Puraskar) এবং পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের ‘লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট’ পুরস্কার (Lifetime Achievement Award)।

Continue Reading
Advertisement