রাজনীতি
বাজি পোড়াতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুন নেভাতে একসঙ্গে বিজেপি-তৃণমূল
ডিজিটাল ডেস্কঃ দীপাবলির (Diwali) রাতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের খানাকুল (Khanakul) এলাকায়। বাজি পোড়ানো (Firecrackers) থেকে আগুন লেগে ভস্মীভূত হয়ে গেল একাধিক বাড়ি, যার মধ্যে একটি বাড়ি ছিল বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ মিঠুন সাঁতরার কাকা জয়দেব সাঁতরার (Joydeb Santra)।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজহাটি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেনাপুকুর (Benapukur) এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়দেব সাঁতরার বাড়ির কাছে কিছু বাচ্চা বাজি ফাটাচ্ছিল। সেখান থেকেই আগুন লেগে যায়। খড়ের চালের (Straw Roof) ওপর। পড়া মাত্রই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়ি গ্রাস করে নেয়।
শুধু ওই একটি বাড়িই নয়, আশপাশের আরও ৫টি বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে প্রথমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন স্থানীয় তৃণমূল (TMC) কর্মীরা। খবর পেয়ে তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নূর নবী মণ্ডল (Nur Nabi Mondal) ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সক্রিয়ভাবে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।
অন্যদিকে, ঘটনা জানার পর ছুটে আসেন খানাকুলের বিজেপি (BJP) বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh)। বেশ কিছু সময় পর পুলিশ (Police) ও দমকল বাহিনী (Fire Brigade) ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তবে ততক্ষণে স্থানীয়দের প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি ঝুপড়ি (Makeshift Hut) হলেও, স্থানীয়দের তৎপরতায় তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনায় দু’জন প্যানিক অ্যাটাকের (Panic Attack) শিকার হন এবং আরও দু’জন আহত (Injured) হন। তাঁদের খানাকুল হাসপাতালে (Khanakul Hospital) চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
নূর নবী মণ্ডল বলেন, “বাড়ির ছাউনি খড়ের ছিল, সেই কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। পরিবারটির পাশে আছি আমরা।”
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে শব্দবাজি নিষিদ্ধ থাকলেও পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল? দীপাবলির উৎসবের মধ্যে এমন ভয়াবহ ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।


