২০১৩ সালের সারদা মামলায় সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের বেকসুর খালাস
Connect with us

প্রতারণা

২০১৩ সালের সারদা মামলায় সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের বেকসুর খালাস

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির (Saradha Scam) মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন (Sudipta Sen) ও দেবযানী মুখোপাধ্যায় (Debjani Mukhopadhyay) মঙ্গলবার তিনটি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন। ২০১৩ সালে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এই মামলাগুলোতে অনেক টাকার প্রতারণার অভিযোগ ছিল। মঙ্গলবার ১১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত প্রথম তিনটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন।

এই রায়ের পর দেবযানীর মা শর্বরী মুখোপাধ্যায় (Sharwari Mukhopadhyay) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সত্যের জয় কিছুটা হলেও হয়েছে। সময় লাগছে। প্রথম কোনো মামলায় খালাস পেল। হয়তো অন্য মামলাতেও এই প্রভাব পড়বে। আমার মেয়ে কোনও দিনই মুখ খুলবে না।” যদিও আপাতত সুদীপ্ত ও দেবযানী জেলের বাইরে আসতে পারছেন না, কারণ তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও বহু মামলা বিচারাধীন।

সুদীপ্ত সেন বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে (Presidency Jail) এবং দেবযানী দমদম সেন্ট্রাল জেলে (Dum Dum Central Jail) রয়েছেন। সারদা মামলার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ২৫০টিরও বেশি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে ২১৪টি মামলায় জামিন পাওয়া গেছে, বাকি মামলাগুলিতে জামিন না থাকায় তারা এখনও জেল হেফাজতে থাকবেন।

Advertisement
ads

আদালত সূত্রের খবর, সরকার পক্ষের ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৫ জন হাজির ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, সাক্ষীদের বয়ানে প্রতারণা বা জালিয়াতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এই কারণেই প্রথম তিন মামলায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারির কারণে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় পড়ে। সেই সময় দেবযানীকে নিয়ে সুদীপ্ত সেন কাশ্মীরের সোনমার্গে লুকিয়ে ছিলেন। পরে ভূস্বর্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২৩ সালে দেবযানী কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে বাইরে এসেছিলেন। এদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা—ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং সেবি (SEBI)-ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা চালাচ্ছে।

আইনজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথম তিনটি মামলায় খালাস পাওয়া সুদীপ্ত ও দেবযানীর ভবিষ্যতের অন্যান্য মামলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত বড় এই স্বস্তির রায়ের পরও তাঁদের জেলের জীবন অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত বাকি মামলা এবং জামিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থায়ী না হয়।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement