উত্তরবঙ্গ
২০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে এসজেডিএ! দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি শংকরের
ডিজিটাল ডেস্কঃ শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-তে গত ১৫ বছরের আর্থিক অনিয়ম (financial irregularities) খতিয়ে দেখতে বিশেষ অডিট (special audit) করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অভিযোগের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাবই নয়, এসজেডিএ-র আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশাসনিক তদন্ত (administrative inquiry) হবে। প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ।
দীর্ঘ আড়াই বছরের অচলাবস্থার (deadlock) পর শুক্রবার এসজেডিএ-র বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্করের নেতৃত্বে বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী ছাড়াও পরিবহণ ও অর্থমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর শংকর ঘোষ জানান, গত ১৫ বছরের এসজেডিএ-র আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট হবে। দুর্নীতির সঙ্গে নেতা, মন্ত্রী, আধিকারিক বা অন্য কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত থাকলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজন হলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এসজেডিএ-র বিরুদ্ধে বৈদ্যুতিক শ্মশানচুল্লি, নদী সংস্কার, সিসিটিভি, ত্রিফলা বাতিস্তম্ভ, কাওয়াখালির ফ্ল্যাট বণ্টন এবং এলইউসিসি (LUCC) দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কাওয়াখালির প্রায় ৪০০টি ফ্ল্যাট বণ্টনে স্বজনপোষণের অভিযোগ এবং এলইউসিসির অপব্যবহারও তদন্তের আওতায় আসছে।
অন্যদিকে, এসজেডিএ-র আওতাধীন এলাকায় উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষ হলে রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল, আধুনিক আলো ও শ্মশানঘাট সংস্কারের কাজের টেন্ডার (tender) শুরু হবে।
নাগরাকাটা ও ধূপগুড়ির মতো আরও কিছু এলাকা এসজেডিএ-র আওতায় আনার জন্য নগর উন্নয়ন দফতরে আবেদন করা হবে। পাশাপাশি পুরনো এসজেডিএ ভবন ভেঙে নতুন বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স (commercial complex) তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ফুলবাড়ির টোল গেটও ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
