ভোটের খবর
এসআইআর নথিতে বাদ মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড, নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থান
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR – Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে ঘিরে ফের কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডকে (Madhyamik Admit Card) এসআইআর-এ নথি যাচাইয়ের জন্য বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার রাজ্য সরকারের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিল কমিশন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতরে পাঠানো একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য যে বৈধ নথির তালিকা আগে থেকেই নির্ধারিত, সেখানে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে এই নথিকে গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না।
নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি শক্তি শর্মার (Shakti Sharma) সই করা চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জারি হওয়া এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকাতেই (SIR Guidelines) পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য নথির পূর্ণ তালিকা দেওয়া আছে। সেই তালিকার বাইরে গিয়ে নতুন কোনও নথি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না—এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে নির্দিষ্ট নথি জমা দিয়ে পরিচয় যাচাই করতে বলা হচ্ছে। বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড বা জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) বিকল্প নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল, মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। তবে সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কাছে জন্ম শংসাপত্র নেই, তাঁদের কাছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডই ছিল সবচেয়ে সহজলভ্য নথি। কারণ ভোটার কার্ড (Voter ID) তৈরির ক্ষেত্রেও এই নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
এই সিদ্ধান্তে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত বহু পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীর সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসনের একটি অংশ। যদিও নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বত্র একরকম নিয়ম বজায় রাখাই স্বচ্ছতা (Transparency) এবং বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সবচেয়ে জরুরি।
ভোটের মুখে রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


