রাজনীতি
বাবার অনুগামীদের দাবিতে রাজনীতিতে নামছেন রেহেনা, তৃণমূলের নব প্রজন্মে নতুন অধ্যায়
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফরাক্কার প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক মইনুল হক (Moinul Haque)-এর পথ অনুসরণ করেই সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখলেন তাঁর মেজো কন্যা রেহেনা ইয়াসমিন (Rehena Yasmin)। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান যে, বাবার আদর্শ ও অনুগামীদের (Supporters) আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে (Active Politics) নামছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বর দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হন ফরাক্কার প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি মইনুল হক। ১৯৯৬ থেকে টানা পাঁচবার কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী হিসেবে ফরাক্কা বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। একসময় তিনি এআইসিসি (AICC)-এর সম্পাদক ছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) এবং ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)-এর কংগ্রেস সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন।
তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ফরাক্কা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (Monirul Islam)-এর কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২২ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত ধরে তিনি দীর্ঘ ৪০ বছরের কংগ্রেস জীবন শেষ করে তৃণমূলে যোগ দেন। আমৃত্যু তিনি রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতির (Vice President) দায়িত্বে ছিলেন।
মইনুল হকের রাজনৈতিক জীবনে তাঁর পরিবার রাজনীতিতে কখনও সক্রিয় হয়নি। তবে দিন কয়েক আগে ফরাক্কা ব্যারেজ রাজীব ভবনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় (Memorial Meeting) প্রথমবার জনসমক্ষে দেখা যায় বছর পঁয়ত্রিশের রেহেনা ইয়াসমিনকে। বাবার স্মৃতিচারণে তাঁর বক্তব্য সেদিন উপস্থিতদের মন ছুঁয়ে যায়। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) তাঁর প্রশংসা ও সমর্থনে তৈরি হয় আলোড়ন। মইনুল অনুগামীরা সরাসরি তাঁকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান।
অবশেষে, অনুগামীদের আবেগ ও ফরাক্কার মানুষের ভালোবাসায় সাড়া দিয়েই রেহেনা ইয়াসমিন সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেহেনা ফরাক্কা দিল্লি পাবলিক স্কুল (Delhi Public School, Farakka) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলকাতা থেকে এমবিএ (MBA) সম্পূর্ণ করেছেন।
রেহেনা বলেন —
“বাবার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে ২ নভেম্বর। বাবার প্রয়াণের পর ফরাক্কাবাসীর (People of Farakka) আবেগ ও শ্রদ্ধা দেখে আমি অভিভূত। তাঁদের ভালোবাসা ও বাবার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মানুষের পাশে থেকে বাবার দেখানো পথেই চলব — এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
রেহেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ও সাংসদ খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। তিনি বলেন —
“মইনুল হক ছিলেন আমাদের দলের এক মূল্যবান সম্পদ। তাঁর কন্যা রেহেনার রাজনীতিতে আসা দলের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।”
