আবহাওয়া
মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে প্লাবিত অসমের ১৬টি জেলা! একদিনেই মৃত ২১, বিপর্যস্ত সাধারণ জীবন
ডিজিটাল ডেস্কঃ নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টির (Cloudburst) জেরে অসমে (Assam) ভয়াবহ বন্যা (Flood) পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের ১৬টি জেলা এখন বন্যাকবলিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু মঙ্গলবারই ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরের বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১। বর্তমানে অন্তত ৫ লক্ষ ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি শিবসাগর (Sivasagar) জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চরাইদেও (Charaideo)-এ পাঁচজন, গোলাঘাটে (Golaghat) দু’জন এবং জোরহাটে (Jorhat) একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪৪টি Revenue Circle-এর অন্তর্গত ৮৭২টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) জানিয়েছেন, দিখৌ (Dikhow) ও দেশং (Desang) নদীর জলস্তর গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতিকে তিনি “অভাবনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন। বুধবার তিনি চরাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, জোরহাট-সহ একাধিক বন্যাদুর্গত এলাকা ও ত্রাণ শিবির (Relief Camp) পরিদর্শন করেন।
We are grateful to our Army, Airforce, NDRF and all other security personnel who are leaving no stone unturned to bring people to safety. https://t.co/OzjVUoNhaE
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) July 21, 2026
বর্তমানে ৭১টি ত্রাণ শিবিরে ১২,২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), বায়ুসেনা এবং দমকল বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫০০-রও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার (Helicopter) ও ড্রোন (Drone)-এর মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
📢 Public Advisory
To ensure uninterrupted mobile connectivity in the flood-affected districts of Sivasagar, Charaideo and Jorhat, the Department of Telecommunications, Government of India, has activated the Intra-Circle Roaming (ICR) facility until 24 July 2026.
This will… pic.twitter.com/kQtXE4efw5
— Chief Minister Assam (@CMOfficeAssam) July 21, 2026
অন্যদিকে, রেললাইনে জল উঠে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (NFR) একাধিক ট্রেন বাতিল, রুট পরিবর্তন এবং বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাটে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল পরিষেবার জন্য Intra-Circle Roaming (ICR) সুবিধাও চালু করা হয়েছে।
