রাজ্যের খবর
বিজেপি-র বৈঠকে ডাক পাচ্ছেন না, পাল্টা দিলেন ‘প্রাক্তন সভাপতি’
ডিজিটাল ডেস্কঃ জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Mandir, Digha) দর্শনের জেরে ফের বিতর্কে রাজ্যের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমন্ত্রণে সস্ত্রীক দিঘা সফরের পর থেকেই দলের একাংশের তির্যক মন্তব্য ও কটাক্ষের শিকার তিনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, আসন্ন রাজ্যস্তরের বিজেপি বৈঠক থেকে তাঁকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি।
সূত্র বলছে, আগামী ৬ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজিত হচ্ছে রাজ্য বিজেপির তরফে। সেখানে দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না—এমনটাই মনস্থির করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও এ নিয়ে দলের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রতি ‘সম্পূর্ণ বয়কট’-এর ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও পড়ুনঃ দিঘা সফরের জেরে দিলীপ ঘোষকে কার্যত একঘরে করল বিজেপি, সঙ্ঘও রাখছে দূরত্ব
এদিকে এসব জল্পনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন দিলীপ ঘোষ। বরং তাঁর ভঙ্গিতে ধরা পড়ল চিরচেনা ঠোঁটকাটা বক্তব্যের ঝলক। শনিবার সকালে ইকো পার্কে (Eco Park) হাঁটতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, “গত তিন বছরে আমি দলের কোন কর্মসূচিতে গিয়েছি বলুন তো?” একটু থেমে যোগ করেন, “আমি নিজের কর্মসূচি নিজেই বানাই, অন্যের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।”
তিনি আরও বলেন, “পাবলিক প্রোগ্রাম ছাড়া অনেক কর্মসূচিই তো লেখা থাকে না। আমি সারাদিন জনসংযোগে ব্যস্ত থাকি। কেউ আসে দেখা করতে, কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হয়, মিডিয়ার সঙ্গেও দেখা হয়। এটাই আমার রুটিন।” একরাশ মুচকি হেসে একথাও জুড়ে দেন—“রেস্টও তো দরকার হয় মাঝে মাঝে!”
বিজেপির অন্দরের কটাক্ষেও যে তিনি কাত হননি, তা স্পষ্ট তাঁর জবাব থেকে। শুক্রবার রাতে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার তথা বর্তমানে তমলুকের বিজেপি নেতা অশোক দিন্দা (Ashok Dinda) যে মন্তব্য করেছেন, সে প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “অনেকেই এরকম বলেছিল এক সময়। পরে আবার পা ছুঁয়ে ক্ষমা চেয়েছে। যারা হঠাৎ বিজেপিতে এসেছে, তাদের অনেক কিছু বলার থাকে। তার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।”
২০১৯ থেকে ২০২১—দলবদলের উত্তাল সময়ে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ বলেন, “দিল্লি থেকে প্লেনে করে লোক আনার সময় আমাকে ডাকা হতো। আমি যেতাম না। কারণ আমি বাংলার রাজনীতি করি। আমি কখনও কারও বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকিনি, কারও অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইনি। আমি একটা পার্টি গড়েছি। আজ যারা অন্য পার্টি থেকে এসে জায়গা দখল করেছে, তারাই বড় বড় কথা বলছে।”
