ডিজিটাল ডেস্কঃ ওড়িশার (Odisha) সম্বলপুরে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। নিহত যুবকের নাম জুয়েল শেখ ওরফে জুয়েল রানা (Jewel Rana)। সহকর্মীদের অভিযোগ, খুনের আগে আধার কার্ড (Aadhaar Card) দেখতে চাওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) সন্দেহ করেই হামলা চালানো হয়। যদিও পুলিশ এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সুতি ১ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা জুয়েল কাজের সূত্রে সম্বলপুরে থাকতেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি ও তাঁর দুই সহকর্মী একটি চায়ের দোকানে (Tea Stall) ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় পাঁচ-ছ’জন দুষ্কৃতী এসে প্রথমে বিড়ি (Bidi) চায়। এরপর পরিচয় জানতে চেয়ে আধার কার্ড দেখতে বলে। আহত শ্রমিক মাজহার খান জানান, “হঠাৎ করেই জুয়েলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে চোখের সামনে খুন করল।”
আর এক সহকর্মী নিজামুদ্দিন খানের দাবি, হামলাকারীরা তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে গালিগালাজ করছিল। নির্মম মারধরের ফলে ঘটনাস্থলেই জুয়েল লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে সম্বলপুর হাসপাতালে (Sambalpur Hospital) নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মাজহার ও নিজামুদ্দিন গুরুতর জখম অবস্থায় এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিকভাবে (Mentally Traumatized) তাঁরা ভেঙে পড়েছেন।
ঘটনার পর কফিনবন্দি দেহ ময়নাতদন্ত (Post-mortem) শেষে মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছে। পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) অভিযোগ করেছে, বিজেপির (BJP) বাংলাবিরোধী প্রচারের ফলেই এই হত্যাকাণ্ড। যদিও ওড়িশা পুলিশ জানায়, নাগরিকত্ব (Citizenship) বা ভাষার কারণে নয়, বিড়ি নিয়ে বচসা থেকেই এই ঘটনা। ইতিমধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত (Investigation) চলছে।
এই হত্যাকাণ্ড ফের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিচয় রাজনীতির (Identity Politics) প্রশ্ন তুলে দিল।