উত্তর দিনাজপুর
রায়গঞ্জে প্রেমের পরিণতি রক্তাক্ত, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে ট্রান্সজেন্ডার তরুণীর মারধরের অভিযোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভালোবাসা যেন রক্তাক্ত! সমাজের স্বীকৃতি না পেলেও দুই হৃদয়ের টান থামানো যায় না। কিন্তু যখন সেই প্রেম বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার ও সমাজের চোখে, তখনই তৈরি হয় ভয়ঙ্কর পরিণতি। সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে (Raiganj) এক রূপান্তরকামী তরুণীর উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত মুখে এক তরুণী কাতর স্বরে বলছেন, “আমাকে খুব মেরেছে, রক্তারক্তি করে দিয়েছে। সঞ্জুকে তুলে নিয়ে গেল।”
আক্রান্ত তরুণীর নাম পায়েল বিশ্বাস (Payel Biswas)। হেমতাবাদের বাসিন্দা পায়েল জন্মসূত্রে ছিলেন পুরুষ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই নারী হয়ে ওঠার সংগ্রাম চালিয়ে যান। অবশেষে ৬ মাস আগে তিনি জেন্ডার রি-অ্যাসাইনমেন্ট সার্জারির (gender reassignment surgery) মাধ্যমে নারীতে রূপান্তরিত হন। এরপরই ভালোবাসার মানুষ সঞ্জু দত্ত (Sanju Dutta) তাঁকে বিয়ে করেন গত ২৪ জুলাই।
পায়েলের অভিযোগ, এই বিয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি সঞ্জুর পরিবার। অভিযোগ, দেবীনগর বাজার এলাকায় সঞ্জুর বাড়িতে শনিবার রাতে তাঁকে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও করেছেন পায়েল। মারধরের জেরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Raiganj Medical College & Hospital)।
আরও পড়ুনঃ টানা দুই দিন শহরে যান নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রপতির সফরে ট্র্যাফিক পুলিশের নতুন নির্দেশিকা
পায়েল দাবি করেছেন, সঞ্জুর বাড়ির লোকেরা ষড়যন্ত্র করে সঞ্জুকে ‘ড্রাগ অ্যাডিক্ট’ সাজিয়ে জোর করে হোমে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় পাশে দাঁড়িয়েছেন পায়েলের এক বন্ধু, রূপান্তরকামী ইয়ান কর্মকার (Ian Karmakar)। তাঁর বক্তব্য, “এই সমাজ এখনও আমাদের স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। প্রতিদিন অপমান সহ্য করতে হয়। অথচ আমরা এই সমাজেরই অংশ।”
পুলিশ এখনও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেনি। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে সমাজমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়ানের দাবি, “এটা নিছক প্রেমের গল্প নয়, এটা ট্রান্সজেন্ডারদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিদর্শন।”
পায়েলের দাবি, “ভালোবেসেছিলাম, কিন্তু ভালোবাসার দাম দিতে হল রক্ত দিয়ে।” এখন গোটা রায়গঞ্জ জুড়েই প্রশ্ন, রূপান্তরিত হয়ে ভালোবাসা পাওয়া কি অপরাধ? এই ঘটনার সুবিচার চান অনেকেই।