ভাইরাল খবর
মদের সিন্ডিকেটে ১০০০ কোটির জালিয়াতি! গ্রেফতার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে
ডিজিটাল ডেস্কঃ ১০০০ কোটির মদ কেলেঙ্কারি (liquor scam) মামলায় ফের গ্রেফতার হলেন ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের পুত্র চৈতন্য বাঘেল। এই দুর্নীতির মামলায় (corruption case) তাকে এসিবি (ACB) ও ইওডব্লিউ (EOW) যৌথভাবে গ্রেফতার করেছে। শুধু চৈতন্য নয়, এই মামলায় অভিযুক্ত দীপেন চাওদাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৮ জুলাই চৈতন্য বাঘেলকে গ্রেফতার করেছিল ইডি (ED)। তারপর থেকে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে (judicial custody) ছিলেন। এবার এসিবি/ইওডব্লিউ ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ (production warrant) পাওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করে ফের হেফাজতে নেওয়া হয়।
সংস্থার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে চৈতন্য ও দীপেন চাওদাকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয় এবং তাঁদের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মদ কেলেঙ্কারি মূলত ছত্তিশগড়ে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ঘটে, যখন ভূপেশ বাঘেলের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। অভিযোগ, বেআইনি মদের বিক্রি থেকে বিশাল অঙ্কের ‘কমিশন’ আদায় করে তা রাজনৈতিক শীর্ষস্তরে পৌঁছানো হয়েছিল। রাজ্যের আয় (revenue) না বাড়লেও, সিন্ডিকেটের সদস্যরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, এই অপরাধমূলক কার্যকলাপে (criminal conspiracy) চৈতন্য বাঘেল ছিলেন মূল সুবিধাভোগী। ইডি জানিয়েছে, তিনি প্রায় ১০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
চৈতন্যের আইনজীবী ফয়সাল রিজভী দাবি করেছেন, কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, মূল চার্জশিট এবং একাধিক সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে চৈতন্যের নাম নেই, যদিও চার্জশিটে প্রায় ৪৫ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৯ জনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি।
তবে ইডির ৭০৩৯ পাতার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে চৈতন্যকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইডির মতে, ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’ (proceeds of crime) থেকে ১৬.৭০ কোটি টাকা সরাসরি চৈতন্য গ্রহণ করেছেন এবং নিজের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ব্যবহার করে সেগুলো হোয়াইট মানি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই অর্থ ‘ভিত্তল গ্রিন প্রজেক্ট’ (Vittal Green Project) সহ একাধিক রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।
ইডির অন্যতম সাক্ষী সৌরভ কুমার পান্ডে জানান, এই স্ক্যামে চৈতন্য ছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী এবং আনোয়ার ধেবর (রায়পুর মেয়র আইজাজ ধেবরের ভাই), ও রাম গোপাল অগরওয়াল (তৎকালীন কংগ্রেস কোষাধ্যক্ষ)-এর মাধ্যমে রাজনীতিকদের কাছে অর্থ পাঠান। অভিযুক্ত লক্ষ্মী নারায়ণ বনসল জানান, চৈতন্যের নির্দেশে কে.কে. শ্রীবাস্তবকে ৮০-১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।
চৈতন্য বাঘেলকে গত ১৮ জুলাই ২০২৫ তার ৩৮তম জন্মদিনে ভিলাইয়ের তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২২ জুলাই তাকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
ইডির তদন্তে পাওয়া এক হার্ডডিস্ক (hard disk) থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণও চার্জশিটের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার দাবি, এখনো অর্থের চূড়ান্ত ব্যবহার (end use) ও লেনদেনের ধারা অনুসন্ধান চলছে এবং বাঘেল পরিবারের ঘনিষ্ঠদের কাছে সেই অর্থ পাঠানো হয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে।
এই সিন্ডিকেটে রাজ্যের এক্সাইজ দপ্তর, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা সক্রিয় ছিলেন বলেও অভিযোগ। মদ কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের দাবি— কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।


