জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার চন্দ্রভাগা নদীর ওপর তৈরি এই চেনাব ব্রিজ স্টিল ও কংক্রিট দিয়ে এমনভাবে নির্মিত, যা রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ক্ষতির মুখে পড়বে না। বড়সড় বিস্ফোরণের ক্ষেত্রেও ব্রিজের নিরাপত্তা কার্যকর থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং ভূমিকম্পের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ব্রিজে উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০০৩ সালে বাজপেয়ী সরকারের সময় অনুমোদিত এই প্রকল্পের কাজ ২০০৪ সালে শুরু হয়। ২০০৯ সালে তীব্র হাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মোদি সরকার পুনরায় কাজ শুরু করে। ২০১৭ সালে আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ হয় এবং ২০২১ সালে আর্চ অংশের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের আগস্টে নির্মাণ সম্পন্ন হয়। যদিও এপ্রিল মাসে আবহাওয়ার কারণে উদ্বোধন স্থগিত হয়, তারপর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা সংঘটিত হয়। হামলার পর ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অপারেশন সিঁন্দুর শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ বকরি ঈদ ঘিরে কড়া নির্দেশিকা দিল দিল্লি সরকার, গরু-উট জবাই নিষিদ্ধ, সতর্ক পুলিশ প্রশাসন
তবে কাশ্মীরে পর্যটকদের ফেরানো এবং স্থানীয়দের আস্থা ফিরে পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই লক্ষ্যেই শুক্রবার চেনাব ব্রিজ ও শ্রীনগর-কাটরা রেলপথ উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্রিজের ওপর হেঁটে ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah), উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা (Manoj Sinha) এবং রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)।
চেনাব ব্রিজ উদ্বোধনের ফলে আজই থেকে কাটরা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হলো। নতুন রেললাইনে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস দুই দিকেই চলাচল করবে। এর ফলে শ্রীনগর থেকে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের নিকটবর্তী কাটরা স্টেশনে মাত্র তিন ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। শ্রীনগর-কাটরা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে থাকবে সাতটি এসি চেয়ার কার, যার মধ্যে এক্সিকিউটিভ ক্লাসও অন্তর্ভুক্ত।
কাটরা থেকে ট্রেন ছাড়ার সময় সকাল ৮:১০ মিনিট, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় বেলা ১১:২০ মিনিট। শ্রীনগর থেকে ট্রেন ছাড়বে সকাল ৮:৫৫ মিনিটে এবং কাটরা পৌঁছাবে দুপুর ১২:০৫ মিনিটে। ভবিষ্যতে এই রেলপথ বুদুগাঁও পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ভাড়ার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও ধারণা করা হচ্ছে সাধারণ চেয়ার কারের ভাড়া ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা এবং এক্সিকিউটিভ ক্লাসের জন্য ২,২০০ থেকে ২,৫০০ টাকা হবে।
এই রেল প্রকল্প কাশ্মীরের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।