হামলা
‘পুলিশ চাইলে সকালেই কড়া হতে পারত’, বিকাশ ভবন বিক্ষোভে পুলিশের পাল্টা যুক্তি
ডিজিটাল ডেস্ক: বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ ঘিরে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হলেও, এবার ঘটনার দায় কার্যত আন্দোলনকারীদের দিকেই ঠেলে দিল রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। দক্ষিণবঙ্গের এডিজি (ADG) সুপ্রতিম সরকার (Supratim Sarkar) জানিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ‘আবশ্যিক’ বলপ্রয়োগ করতে হয়েছিল পুলিশকে।
সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি বলেন, “ভিতরে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ সরকারি কর্মী আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও ছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করতেই যতটুকু বলপ্রয়োগ প্রয়োজন ছিল, ততটাই করা হয়েছে। এটা মেনে নিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, “সকাল থেকে পুলিশ সংযত ছিল। এমনকী আন্দোলনকারীরা গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সাত ঘণ্টা ধরে বোঝানো সত্ত্বেও তাঁরা নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।”
পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে বিকাশ ভবনের কর্মীরা বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না। আতঙ্কে এক কর্মী ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন বলেও জানানো হয়েছে। আরেক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই লাঠিচার্জের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ সেনার আধুনিকীকরণে অতিরিক্ত ৫০ হাজার কোটি, প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে কেন্দ্র
অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের এডিজি জাভেদ শামিম (Jawed Shamim) বলেন, “সেখানে বহু দফতরের কর্মচারী ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ‘ন্যূনতম’ বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে।” সুপ্রতিম সরকারের যুক্তি, “বলপ্রয়োগ করাই যদি উদ্দেশ্য হত, তাহলে সকালেই তা করা যেত। কিন্তু আমরা তা করিনি।”
তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জ ছিল অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিওয় বহু আন্দোলনকারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গিয়েছে। কেউ হাত ভেঙেছেন, কারও পিঠে আঘাতের দাগ স্পষ্ট। ব্যান্ডেজ বেঁধেই অনেকেই আবার শুক্রবার সকালেও আন্দোলনে অংশ নেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই এখনও সম্পূর্ণভাবে হয়নি। তবে সরকারি ব্যাখ্যার পাশাপাশি, পুলিশি আচরণ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও ইতিমধ্যে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।
