হামলা
সেনার আধুনিকীকরণে অতিরিক্ত ৫০ হাজার কোটি, প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে কেন্দ্র
ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে চালানো সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) এবং পাকিস্তানের পালটা হামলা প্রতিহত করতে ভারতের আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সাফল্য আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা। সেই দিক বিবেচনা করেই দেশের নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের পথে হাঁটছে মোদি সরকার (Narendra Modi Government)। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই সংসদে পেশ হবে সংশ্লিষ্ট বিল।
২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৬ লক্ষ ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। চলতি ২০২৫ অর্থবর্ষে তা আরও বাড়িয়ে ৬ লক্ষ ৮১ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে, যা মূল বাজেটের প্রায় ১৩ শতাংশ। এবার সেই খাতে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ তেরঙ্গা দিয়ে ঘাম মোছা! বিতর্কে জয়পুরের বিজেপি বিধায়ক বালামুকুন্দ আচার্য
এই বাড়তি অর্থ মূলত ব্যয় হবে সেনার প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ, প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহের জন্য। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে আগত অত্যাধুনিক এস-৪০০ (S-400) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তানের পালটা হামলার সময় কার্যকরভাবে শত্রু রুখে দেয়। এর পাশাপাশি ড্রোন, হাইপারসনিক মিসাইল, স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও (Pahalgam) এলাকায় জঙ্গি হামলায় বহু সেনা জওয়ান শহিদ হন। তার বদলা নিতে ভারত ৬ ও ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে শতাধিক জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। পালটা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় ভূখণ্ডে হামলার চেষ্টা করে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করে।
ভারতের পালটা প্রত্যাঘাতে অন্তত ১১টি পাক সেনাঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সেনা সূত্রের দাবি। এরপরই ইসলামাবাদ থেকে আসে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব। ভারত সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানালেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই বরাদ্দ ভারতের সামরিক কৌশলগত অবস্থানকে আরও জোরদার করবে এবং ভবিষ্যতের যেকোনও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সেনাকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাবে।
