দেশের খবর
জিএসটি আরও কমাতে পারে সরকার, ভবিষ্যৎ করছাড়ের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ নবরাত্রির (Navratri) প্রথম দিনেই, ২২ সেপ্টেম্বর, পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (Goods and Services Tax)-র পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন যে ভবিষ্যতে দেশের কর কাঠামো আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হতে চলেছে।
বার্তাসংস্থা পিটিআই (PTI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউপি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শো (UPI International Trade Show)-র উদ্বোধনে মোদী বলেন, “অর্থনীতি শক্তিশালী হলে কর (Tax) আরও কমানো হবে।” তিনি জানান, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে করের হার অনেকটাই কমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,
২০১৪ সালে যদি কেউ ১ লক্ষ টাকার কেনাকাটা করতেন, তাকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা কর দিতে হত। বর্তমানে সেই কর কমে ৫-৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন,
-
১ হাজার টাকার একটি শার্টে আগে ১১৭ টাকা কর ছিল, ২০১৭ সালে তা কমে হয় ৫০ টাকা, আর এখন মাত্র ৩৫ টাকা।
-
টুথপেস্ট, তেল, শ্যাম্পু ইত্যাদিতে আগে ৩১ টাকা কর দিতে হত, এখন সেই কর কমে হয়েছে মাত্র ৫ টাকা।
-
একটি ট্রাক্টরের উপর আগে ৭০ হাজার টাকা কর লাগত, এখন ৩০ হাজার, কৃষক সাশ্রয় করছেন প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
-
তিন চাকার গাড়িতে আগে ৫৫ হাজার টাকা কর থাকলেও, বর্তমানে তা কমে ৩৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
-
স্কুটার ও মোটরসাইকেলের দামও জিএসটি হ্রাসের কারণে যথাক্রমে ৮ হাজার ও ৯ হাজার টাকা কমেছে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এই কর হ্রাসের প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। তিনি বলেন, “২০১৭ সালে জিএসটি চালু হওয়ার পর দেশজুড়ে এক নতুন কর সংস্কার শুরু হয়েছে। এখন ২০২৫ সালে নতুন জিএসটি কাঠামো আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দেশের অর্থনৈতিক ভিত যত মজবুত হবে, ততই করের বোঝা হ্রাস পাবে।”
এছাড়া মোদী সরাসরি কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, “২০১৪-র আগে কর ব্যবস্থা ছিল একেবারে জগাখিচুড়ি। তখন সাধারণ মানুষ করের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন। কংগ্রেস এবং তাদের মিত্ররা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, আগের সরকারের আমলে করের মাধ্যমে জনগণের উপর লুঠ চালানো হত।”
তিনি আরও দাবি করেন, আগে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কর (Income Tax) ছাড় থাকত, এখন ১২ লক্ষ টাকার আয় করমুক্ত। আয়কর ও জিএসটি ছাড় মিলিয়ে দেশের মানুষের প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।
মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার জিএসটি হ্রাসের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতেও এই কর সংস্কার অব্যাহত থাকবে।


