‘আবহাওয়ার বদল’ আসন্ন: সেনাকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়ার পথে মোদী
Connect with us

হামলা

‘আবহাওয়ার বদল’ আসন্ন: সেনাকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়ার পথে মোদী

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পুলওয়ামা ও উরি হামলার জবাবে ভারতীয় সেনার পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ যেন নতুন করে উসকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দিনভর পরপর চারটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শেষে তাঁর মন্তব্য, “ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দরকার”, ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারত-পাক সম্পর্কের আবহে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিয়ে ওই বৈঠকে মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম দ্বিধা থাকবে না। আর তার প্রমাণ মিলেছে রাতেই— ভারতের আকাশসীমা পাকিস্তানের রেজিস্টার্ড বিমানের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে ২৩ মে পর্যন্ত।  ভারতের এই পদক্ষেপকে পালটা জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে পাকিস্তানের সেই ঘোষণার পরে, যেখানে তারা ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতীয় রেজিস্ট্রেশনধারী বিমানের জন্য নিজেদের আকাশপথ বন্ধ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পরেই ভারতীয় সেনাকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত বাস্তবায়িত হতে শুরু করে। কাশ্মীর সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক সেনার গুলির জবাবে মর্টার হামলা শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। এদিকে, রাতারাতি সাংবাদিক সম্মেলন করে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভারত আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালাতে পারে। পালটা হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের সেনা কর্তারা— সীমান্ত লঙ্ঘন হলে জবাব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরি জঙ্গি নেটওয়ার্কের পুরোনো খেলোয়াড়, ফের সক্রিয় ফারুক তিড়ওয়া

Advertisement
ads

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই হটলাইনে পাক সেনার ডিজিএমও-কে সরাসরি সতর্ক করেন ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। বার্তা পরিষ্কার— উসকানি বন্ধ না হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বুধবার সকাল থেকে কাশ্মীর সীমান্তে ভারতের আধুনিক যুদ্ধবিমান রাফাল-কে উড়তে দেখা গেছে। এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনও সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতিতে রাফালের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বায়ুসেনা সূত্র জানিয়েছে, এই বিমান প্রস্তুত রয়েছে “কোয়িক স্ট্রাইক”-এর জন্য।

প্রধানমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের সময় আচমকাই মেঘলা আকাশ ও বিমান চলাচল নিয়ে প্রসঙ্গ ওঠে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কুর্সির পেটি বেঁধে নিন, আবহাওয়ার পরিবর্তন আসন্ন”— যা আসলে নতুন প্রত্যাঘাতের ইঙ্গিত হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবারের বৈঠকে তৈরি হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের নতুন কাঠামো, যার প্রধান করা হয় প্রাক্তন র’ প্রধান অলোক যোশীকে। এই বোর্ড ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
ads

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনার আসন্ন অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের কোনও জঙ্গিঘাঁটি। দিন কয়েক আগে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক্সে লিখেছিলেন, “পিওকে দখল করতে হবে”। তাঁর মন্তব্য এখন আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রত্যাঘাত ঠিক কবে, কোথায় হবে— তা এখনও অনিশ্চিত। তবে সেনা সূত্রে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “শুভস্য শীঘ্রম”।

Continue Reading
Advertisement