ধর্ম
চট্টগ্রাম আদালত হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত চিন্ময় প্রভু! অভিযোগ পুলিশের, প্রশ্ন তুলছে সংখ্যালঘুরা— ষড়যন্ত্রের গন্ধ?
ডিজিটাল ডেস্কঃ চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ (Saiful Islam Alif) হত্যা মামলায় এক বিস্ময়কর মোড়! মঙ্গলবার মামলার অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠল সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারীর (Chinmoy Krishna Das Brahmachari)। তদন্তকারী আধিকারিক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান (Mahfuzur Rahman) জানিয়েছেন, চিন্ময়ের “উসকানিমূলক বক্তব্য”-ই ওই হিংসার মূলে।
তবে এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, “পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত! চিন্ময় প্রভুর জনপ্রিয়তা ও হিন্দু অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকার ফলেই তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। আইনজীবী আলিফের মৃত্যুকে ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দমন করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ আটদিনের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ব্রিকস সম্মেলনে পহেলগাম হামলার প্রসঙ্গ তুলতে প্রস্তুত ভারত
মামলার অভিযোগপত্রে মোট ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০ জন ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হলেও বাকি ১৮ জন পলাতক। মামলার মূল এফআইআরে নাম না থাকলেও চিন্ময় প্রভুকে ‘হুকুমদাতা’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অভিযোগ, জামিন না পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে তাঁর ভাষণেই উস্কানি পায় উপস্থিত সমর্থকরা।
অপরদিকে, মামলার তিন আসামি— চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য এবং রিপন দাশ— আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও দাবি পুলিশের। যদিও চিন্ময় অনুগামীরা বলছেন, “তীব্র চাপ ও ভয় দেখিয়ে এই জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। সত্য চাপা দিতে এটা রাজনৈতিক নাটক!”
সূত্রের দাবি, ইউনুস সরকারের (Yunus Sarkar) নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই চিন্ময় দাসকে নিশানা করে এসেছে। সম্প্রদায়ের দাবি, আলিফ হত্যার মতো একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে এখন প্রমাণ-হীন ভিত্তিতে এক ধর্মগুরুকে অপরাধী প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে— যা শুধু অন্যায় নয়, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আপাতত আগামী দিনে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কী ঘটে, তার দিকেই তাকিয়ে সারা দেশের হিন্দু সমাজ।
