ভাইরাল খবর
বারুইপুরে খুন-ধর্ষণের তদন্তে ‘সার্চ অপারেশন’! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পুকুরে ফের উদ্ধার নয়া দেহ
ডিজিটাল ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার ধপধপিতে নাবালিকার নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার রেশ কাটার আগেই একই এলাকায় ছড়াল নতুন আতঙ্ক। যে ‘অভিশপ্ত’ পুকুর বা জলাশয় (Waterbody) থেকে রবিবার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়েছিল, ঠিক তার চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে সোমবার সেই একই পুকুর থেকে আরও এক ব্যক্তির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন করে এলাকায় প্রবল উত্তেজনা (Tension) ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার (৪৫)। তিনি গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ (Missing) ছিলেন।
রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর সোমবার অম্বার, আজ ওই পুকুরে তল্লাশি অভিযান বা সার্চ অপারেশন (Search Operation) চালাচ্ছিলেন পুলিশকর্মীরা। সেই সময়ই কৃষ্ণকান্তের দেহটি উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া দেহটিকে স্থানীয় বাসিন্দারা শনাক্ত করেন। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Post Mortem) জন্য পাঠিয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড (Homicide) নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কৃষ্ণকান্তের কোনো পুরনো শত্রু ছিল কিনা, তা জানার চেষ্টা করছে বারুইপুর থানার পুলিশ। একই সাথে এই রহস্যমৃত্যুর সঙ্গে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের কোনো যোগসাজশ বা সংযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ১১ বছরের নাবালিকার ওপর পাশবিক অত্যাচারের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করার প্রমাণ মেলায় পুলিশ মামলাটিতে গণধর্ষণের (Gang Rape) কঠোর ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিন জঙ্কে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জনকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে (Police Custody) চেয়ে এবং মূল অভিযুক্ত আনন্দকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধপধপিতে সড়ক ও রেল অবরোধ (Rail Blockade) করে ক্ষুব্ধ জনতা যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তার পর এই দ্বিতীয় দেহ উদ্ধার স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল।
