ভাইরাল খবর
‘দোষীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে’! বারুইপুর কাণ্ডে ‘ষড়যন্ত্রকারী’দের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক নাবালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের (Abduction, Rape and Murder) জঘন্যতম ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই অপরাধে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (Capital Punishment) দিতে রাজ্য সরকার সবরকম সুপারিশ করবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। রবিবার রাতভর রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF) ও বারুইপুর থানার যৌথ অভিযানে এই মামলায় মোট ২ জনকে গ্রেফতার ও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে বারুইপুর রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল, তার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র (Conspiracy) দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে (Mob Lynching) ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামের এক সন্দেহভাজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান ও পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ মূলত ৩টি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে—প্রথমটি নাবালিকা খুন, দ্বিতীয়টি গণপিটুনি এবং তৃতীয়টি পুলিশ ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দায়ে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণপিটুনির পিছনে ‘সাম্প্রদায়িক’ (Communal) ইঙ্গিত ছিল এবং ভাঙচুরকারী এমন ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, নিখোঁজ ডায়েরি (Missing Diary) হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, কোনও পুলিশ কর্মীর গাফিলতি (Negligence) প্রমাণিত হলে তাঁকে বরখাস্ত বা ‘দরজা দেখিয়ে দেওয়া’ হবে। নিহত কিশোরীর পরিবার সরকারের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী মঙ্গলবার (৮ জুলাই) মৃত নাবালিকার বাবাকে কলকাতার ভবানী ভবনে (Bhabani Bhawan) ডেকে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আইজি (IG) কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের (Autopsy) রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
