ভাইরাল খবর
৪৪০ কোটির তহবিল নিয়ে মহাসংঘাত! বেসরকারি ব্যাঙ্ককে হলফনামা জমার নির্দেশ হাইকোর্টের
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ভরাডুবির পর এবার ৪৪০ কোটি টাকার দলীয় তহবিলকে (Party Fund) কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) চরম আইনি লড়াইয়ে মুখোমুখি হলো ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Account Freeze) করা সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানি হলেও, এখনই কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবির। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী বুধবার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজই থাকবে।
শুনানিতে কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত ও অভিষেক মনু সিংভি দাবি করেন, প্রথমে ৩টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলেও বর্তমানে মোট ৮টি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিংভি প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ কি একটা সক্রিয় রাজনৈতিক দলকে এভাবে তার লাইফলাইন বন্ধ করে পঙ্গু করতে পারে?” এর জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ (Observation) করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযোগ দায়ের হলো, আর পরদিন সকালেই ব্যাঙ্ক জানাল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। অভিযোগের আগে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের (Crime) কথা সামনে আসেনি, তাহলে হঠাৎ পুলিশ কোন ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করল?”
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষে সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল (Solicitor General) তুষার মেহতা জানান, কীভাবে অর্থ ‘সাইফন’ (Siphon) করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “দলের দুজন ব্যক্তি নিজেদের সভাপতি (President) দাবি করছেন। এই পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া ঠিক হবে না।” তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আদালতের বিবেচ্য বিষয় নয়।
আদালত শরৎ বোস রোডের বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হলফনামা (Affidavit) দিয়ে অ্যাকাউন্টের অর্থের পরিমাণ ও ফ্রিজ করার কারণ জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে পুলিশকে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। তবে দলের দৈনন্দিন জরুরি খরচ, যেমন বিদ্যুৎ ও জলের বিল মেটানোর জন্য হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের (Retired Judges) নিয়ে ‘যুগ্ম স্পেশাল অফিসার’ (Joint Special Officer) নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে আদালত। আগামী ৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে।
