দেশের খবর
রামমন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি: চুরির টাকায় প্রাসাদ ও ফার্মহাউজ বানালো শ্যালক-জামাইবাবু জুটি
রামমন্দিরের অনুদান চুরি করে রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক শ্যালক-জামাইবাবু জুটি। সিটের রিপোর্টে ৩,৫০০ কোটি টাকার ক্যাশ ও গয়নায় বড়সড় চুরির হদিস। ঘটনার কথা জেনেও কেন চুপ ছিলেন ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই? প্রশ্ন তুলে উত্তাল দেশ।
রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান (Donation) চুরি করে রাতারাতি ‘বড়লোক’ হয়ে ওঠার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে প্রাসাদের মতো বাড়ি, বিশাল ফার্মহাউজ ও বিলাসবহুল গাড়ি কিনে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন দুই অভিযুক্ত। রামমন্দিরে কয়েকশো কোটি টাকার এই চুরির অভিযোগে (Allegation) বর্তমানে উত্তাল গোটা দেশ। এই ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য (Explosive Information) সামনে আসছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই চক্রের সাথে জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে, যাদের মধ্যে মূল আকর্ষণ কেড়েছে অনুকল্প মিশ্র এবং লবকুশ মিশ্র নামের এক শ্যালক-জামাইবাবু জুটি।
দিন আনি দিন খাই দশা থেকে রাজপ্রাসাদের মালিক
জানা গিয়েছে, অযোধ্যার বাসাভ গ্রামের বাসিন্দা অনুকল্প মিশ্র কয়েক বছর আগেও অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। প্রতিবেশীদের (Neighbors) মতে, তাঁর সংসার চলত কার্যত দিন আনি দিন খাই দশায়। কিন্তু বর্তমানে সেই গ্রামেই তৈরি করে ফেলেছেন এক বিশাল প্রাসাদ। শুধু তাই নয়, গ্রামের বাইরে একটি বড় ফার্মহাউজও (Farmhouse) বানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও অযোধ্যায় প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনার পাশাপাশি বুক করে ফেলেছেন একটি বিলাসবহুল স্করপিও এসইউভি (SUV) গাড়ি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, বছরতিনেক আগে রামমন্দিরের দান বাক্সের টাকা গোনার কাজ শুরু করেছিলেন অনুকল্প। কিছুদিনের মধ্যেই এই কাজে তিনি তাঁর জামাইবাবু লবকুশ মিশ্রকেও যুক্ত করেন। লবকুশ বর্তমানে ভাড়া বাড়িতে থাকলেও, তিনিও সম্প্রতি লক্ষাধিক টাকা খরচ করে নতুন মোটরবাইক কিনেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আচমকা এই বিপুল অর্থের জোয়ার এল কোথা থেকে? রামমন্দিরের টাকা সরিয়েই কি এই শ্যালক-জামাইবাবু নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছিলেন?
ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
এই ঘটনার মোড় আরও ঘুরে যায় যখন জানা যায় যে, অনুকল্পের আয়োজিত একটি ধর্মীয় সভায় স্বয়ং রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের (Trust) প্রধান এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) ঘনিষ্ঠ নেতা চম্পত রাই হাজির ছিলেন। সূত্রের দাবি, চম্পত রাই সহ ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা (Top Officials) এই অনুদান চুরির বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন।
তাহলে কেন এতদিন পুলিশে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Complaint) দায়ের করা হলো না? মন্দির কর্তৃপক্ষ কি তবে এই চুরির ঘটনা আড়াল (Cover up) করতে চাইছিল? কাকে বাঁচানোর স্বার্থে এই নীরবতা—তা নিয়ে এখন তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গায়েব কোটি কোটি টাকা ও সোনা-রুপো
বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর রিপোর্টে উঠে এসেছে আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। রামমন্দিরে এ পর্যন্ত নগদ প্রণামী হিসেবে জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এর সাথে রয়েছে অগণিত সোনা ও রুপোর গয়না। কিন্তু এই বিপুল ধনরাশির (Wealth) একটি বড় অংশের কোনো হদিস মিলছে না। নগদ টাকা ও গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত (Custody) থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ভক্তদের দানে পাওয়া রুপোর তৈরি একটি ঐতিহাসিক ‘ভূষূণ্ডির কাক’-ও। পুরো বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
