‘শুভেন্দুর সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক!’ ভাঙনের আবহে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে নতুন জল্পনা তৃণমূলে
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘শুভেন্দুর সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক!’ ভাঙনের আবহে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে নতুন জল্পনা তৃণমূলে

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal Politics) নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কৃষ্ণনগরের সাংসদ (MP) মহুয়া মৈত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে। এক সাক্ষাৎকারে (Interview) তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বর্তমানে বিজেপি (BJP) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেন, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।

মহুয়া জানান, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে শুভেন্দুই তাঁকে মানসিকভাবে সহায়তা করেছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা (Lok Sabha) নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ার পর তিনি ভেঙে পড়েছিলেন এবং সেই সময় শুভেন্দু তাঁর পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন।

Advertisement
ads ads

তিনি আরও স্মরণ করেন ২০১৬ সালের বিধানসভা (Assembly) নির্বাচনের সময় করিমপুরে প্রথম প্রচার সভায় শুভেন্দুর উপস্থিতির কথা। মহুয়ার মতে, সেই সময় দলের বড় নেতারা পাশে না থাকলেও শুভেন্দুই প্রথম তাঁর হয়ে প্রচারে আসেন। 

তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ বর্তমান সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, বিদ্রোহী শিবিরের চাপ এবং একাধিক সাংসদের দলত্যাগ নিয়ে দল সংকটে রয়েছে। এই অবস্থায় মহুয়ার এমন মন্তব্যকে অনেকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

মহুয়া অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ নেই। তবে অতীতের সহায়তা তিনি ভুলতে পারেন না। তাঁর ভাষায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে।

একই সাক্ষাৎকারে তিনি তৃণমূল নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও মন্তব্য করেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে শুভেন্দুর অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মহুয়ার মতে, সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়।

Advertisement
ads ads

তিনি আরও বলেন, দল থেকে একাধিক নেতা বেরিয়ে যাওয়া আসলে তৃণমূলের “শুদ্ধিকরণ” প্রক্রিয়ার মতোই হয়েছে। এই মন্তব্য নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দলের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতি, এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মহুয়া মৈত্রের এই বক্তব্য ঘিরে আলোচনা থামার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

Advertisement
ads ads