রাজনীতি
ওয়াই চ্যানেলের হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে ডাহা ফেল! ১০ বিধায়ককেও দেখা যাচ্ছে না মমতার পাশে
ডিজিটাল ডেস্কঃ খাতায় কলমে এখন তৃণমূলের হাতে ৭৮ জন বিধায়ক (MLAs)। কিন্তু মঙ্গলবার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেলে’ (Y-Channel) তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রতিবাদী কর্মসূচিতে দেখা মিলল না ১০ জন জনপ্রতিনিধিরও। শক্তি পরীক্ষা (Strength Test) করার এই মহড়া চলাকালীন মঞ্চে মেরেকেটে হাজির ছিলেন মাত্র ৬ জন বিধায়ক এবং ৫ জন সাংসদ। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে দলের ৪১ জন সাংসদ (MPs) থাকলেও নেত্রীর দুর্দিনে পাশে দাঁড়ালেন না সিংহভাগ নেতা-কর্মী। তবে এত বড় সাংগঠনিক ধসের পরেও আত্মবিশ্বাসে ভাঁটা পড়েনি নেত্রীর। ধর্নামঞ্চ থেকে সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটায়েকে জায়েঙ্গে।”
নির্বাচনে ভরাডুবির (Electoral Debacle) পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূলের সংগঠন। গত রবিবার কালীঘাটের বৈঠকে ২০ জনেরও বেশি বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় বৈঠক বাতিল করতে হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সেই অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হলো। মমতার পাশে এদিন দেখা গেল মদন মিত্র, ববি হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো আদি তৃণমূলের (Old Guard) গুটি কয়েক মুখ। সাংসদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায় ও সামিরুল ইসলাম।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বহুবার ধর্নায় (Sit-in Protest) বসেছেন, কিন্তু এবারের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। দলের এই পরিণতির জন্য সরাসরি গেরুয়া শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি অভিযোগ করেন, “বিজেপি আমাদের বিধায়ক ও সাংসদদের প্রলোভন দেখিয়ে ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” এর পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, সুদিনে না হলেও দলের এই দুর্দিনে (Hard Times) তিনি কর্মীদের পাশে আছেন। অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তন্ময় ঘোষের মতো পরাজিত প্রার্থীদেরও এদিন মমতার পাশে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে।

