ভাইরাল খবর
সই জালিয়াতি মামলায় গতি বাড়াল সিআইডি! অভিষেককে ২০ প্রশ্ন, আদৌকি হাজিরা দেবেন সাংসদ?
ডিজিটাল ডেস্কঃ বিধানসভায় তৃণমূল (TMC) বিধায়কদের সই-জালিয়াতি মামলায় তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল সিআইডি (CID)। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার আগেই গঠন করা হয়েছে একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)। ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার এক দক্ষ অফিসারের নেতৃত্বে এই বিশেষ দলটিতে থাকছেন ডিএসপি এবং ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকরা। মূলত, বিভিন্ন জেলার সাথে সমন্বয় রক্ষা এবং সুশৃঙ্খল তদন্তের স্বার্থেই এই অভ্যন্তরীণ (Internal) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই ২০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের একটি তালিকা (Questionnaire) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই তালিকায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা, বৈঠকের কার্যবিবরণী (Minutes) এবং অনুপস্থিত বিধায়কদের সই কীভাবে নথিতে এলো—তা নিয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন রয়েছে। সিআইডি ইতিমধ্যেই আদালতে সিজার লিস্ট (Seizure list) জমা দিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত (Confiscated) করেছে।
ইতিমধ্যেই এই সই-বিতর্কে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার কুণাল ঘোষ, এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে বয়ান রেকর্ড (Statement recorded) করেছেন গোয়েন্দারা। বিশেষ করে বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ৬ মে-র বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং নথিতে থাকা সইটি তাঁর নয়। প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও জোর করে সই করানোর কথা অস্বীকার করলেও বাহারুলের সই নিয়ে অসঙ্গতির কথা মেনে নিয়েছেন।
শনিবার কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে অভিষেককে সোমবার বেলা ১২টায় হাজিরার নোটিস (Summon) দেওয়া হয়েছিল। তবে সোনারপুরে রাজনৈতিক হিংসার (Political violence) জেরে আহত হওয়ায় তাঁর হাজিরা দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, ‘গুজরাতি গ্যাং’ মন্তব্য এবং হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় একটি এফআইআর (FIR)-ও দায়ের হয়েছে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


