ভাইরাল খবর
১৫ বছরের শাসন হারিয়ে বিরোধী আসনে তৃণমূল! বিধানসভায় তৃণমূলের ধরনায় অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক
ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) ভরাডুবির পর রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে। নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথমবার বিধানসভা চত্বরে বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির (Political Program) ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বুধবার আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে এক অবস্থান বিক্ষোভের (Sit-in Demonstration) আয়োজন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। কিন্তু পালাবদলের পর দলের প্রথম কর্মসূচিতেই গরহাজির রইলেন ৫০ জন বিধায়ক, যা তৃণমূলের ভগ্নপ্রায় দশা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের নির্বাচিত বিধায়কের (MLAs) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। কিন্তু ধরনার শুরুতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩১ জন, যা পরে দাঁড়ায় ৩৪-এ। কর্মসূচিতে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান উঠলেও, একবারের জন্যও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান ওঠেনি। এই নজিরবিহীন অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ পুড়তেই তড়িঘড়ি সাফাই বা ড্যামেজ কন্ট্রোলে (Damage Control) নামেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, শাসকদলের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের (Political Terror) কারণে বহু বিধায়ক নিজেদের এলাকায় ঘরছাড়া কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে সরকার বদল হতেই তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে প্রথম সারির নেতারা গণহারে গ্রেফতার (Arrest) হতে শুরু করেছেন। দেবরাজ চক্রবর্তীর মতো নেতারা আটক হওয়ায় এবং একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) হওয়ায়, পুলিশের কামড় থেকে বাঁচতে বিধায়কদের একাংশ প্রকাশ্য রাজনীতি এড়িয়ে চলছেন। মঙ্গলবার কালীঘাটের ঘরোয়া বৈঠকে ঘরে বসে মিটিং করার নীতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিধায়করা। কিন্তু হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে বুধবার তারা যখন মাঠে নামলেন, তখন অর্ধেকের বেশি বিধায়কের অনুপস্থিতি দলের ফাটলকে আরও চওড়া করল।


