বিশ্বের খবর
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ‘২৫০০০ প্রাণ বাঁচানোর’ দাবিও কার্যকর হল না
ডিজিটাল ডেস্কঃ ৮টি যুদ্ধ (wars) বন্ধ করে কমপক্ষে ২৫,০০০ আমেরিকানের (American) মৃত্যু ঠেকিয়েছেন—এই দাবিতে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই বক্তব্য দিয়ে নিজের ‘বড়সড় কৃতিত্ব’ প্রচার করেছেন তিনি। এমনকি তাঁকে ঘিরে কিছু ‘ঘনিষ্ঠ’ অনুগামী এতটাই প্রশংসায় মাতেন যে, কার্যত ‘গাছে’ তুলে দেন তাঁকে।
তবে এর মধ্যেই ট্রাম্পকে (Trump) নিজ দেশেই বড়সড় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকেই তিনি স্বৈরাচারী মনোভাব (authoritarian behavior) ও দুর্নীতির (corruption) পথে হাঁটছেন। এই কারণেই আমেরিকার (USA) একাধিক শহরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিবাদ।
রয়টার্স (Reuters)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের ২,৬০০-রও বেশি স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই বিক্ষোভে সাধারণ মানুষ তো রয়েছেনই, সঙ্গে পথে নেমেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর (US military) প্রাক্তন সদস্যরাও।
সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ৭০ বছরের প্রাক্তন সামরিক অফিসার কেভিন ব্রাইস (Kevin Bryce)। তিনি বলেন,
“আমি যখন মিলিটারিতে (military) ছিলাম, তখন দেশের যেসব মূল্যবোধ নিয়ে গর্ব করতাম, সেগুলো এখন গভীর সংকটে। আমি সারাজীবন রিপাবলিকান (Republican) থেকেছি, কিন্তু এখন যে পথে দল চলছে, আমি তার সমর্থনে নেই।”
কেবল কেভিন ব্রাইস নন, আরও অনেক প্রাক্তন মার্কিন সেনাও (veterans) রাস্তায় নেমেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই প্রতিবাদের পেছনে মূল অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন গণতন্ত্রের মূলনীতি লঙ্ঘন করছে।
এদিকে ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে বিক্ষোভ নিয়ে কিছু না বললেও, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হালকা হাসিতে বলেন,
“ওরা আমাকে রাজা (King) বলছে… কিন্তু আমি রাজা নই।”
এই বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স (Bernie Sanders) ও কংগ্রেসওম্যান অ্যালেক্সজান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-কর্টেজ (Alexandria Ocasio-Cortez) সহ বহু রাজনীতিক।
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ক্যারিবিয়ান (Caribbean) সাগরে একটি মাদক পাচারকারী ডুবোজাহাজে (submarine) অভিযান চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। হোয়াইট হাউস (White House) এই অভিযানের একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে।
এই অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেছেন,
“আমরা যদি ওটা না ধ্বংস করতাম, তাহলে কমপক্ষে ২৫,০০০ আমেরিকানের প্রাণ হারানোর সম্ভাবনা ছিল। আমরা তাদের রক্ষা করেছি।”
প্রতিরোধ, প্রতিবাদ এবং আত্মপ্রশংসার এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একদিকে নিজেকে ‘শান্তির প্রতীক’ বলে দাবি, অন্যদিকে নিজের দেশেরই হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ—এই দুই বাস্তবতার মাঝে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
