খুন
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-শ্বশুরবাড়ির চারজন
ডিজিটাল ডেস্কঃ গ্রেটার নয়ডায় (Greater Noida) চাঞ্চল্যকর ঘটনায় যৌতুকের দাবিতে এক বধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ নিক্কি ভাটি (Nikki Bhati)-র স্বামী বিপিন ভাটি (Bipin Bhati), শাশুড়ি দয়া ভাটি (Daya Bhati), শ্বশুর সত্যবীর ভাটি (Satyaveer Bhati) এবং ভাসুর রোহিত ভাটি (Rohit Bhati) বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিক্কিকে বিয়ের সময় স্বর্ণ, স্করপিও গাড়ি ও বুলেট বাইক সহ একাধিক মূল্যবান সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। তবুও যেন লোভ কমেনি বিয়ের নয় বছর পরও ৩৬ লক্ষ টাকা আনার দাবি চাপিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অত্যাচার গত বৃহস্পতিবার ভয়ঙ্কর পরিণতি নেয়। নিক্কির ছোট্ট সন্তানের সামনেই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জ্বলন্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন নিক্কি। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দিল্লির সফদরজং (Safdarjung) হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার পর বোন কাঞ্চন ভাটি (Kanchan Bhati) পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বয়ান এবং নিক্কির শিশুপুত্রের কথাতেই প্রকাশ্যে আসে মর্মান্তিক তথ্য।
এই ঘটনায় প্রথমে গ্রেপ্তার হয় স্বামী বিপিন। রবিবার পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পায়ে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখতে আসা অবস্থায় ধরা পড়েন শাশুড়ি দয়া ভাটি। সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয় শ্বশুর সত্যবীর এবং ভাসুর রোহিতকেও।
পুরো ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নিক্কির মৃত্যু ফের একবার যৌতুক-অত্যাচারের বিভীষিকা সামনে এনে দিয়েছে।


