‘হিন্দুরা সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না’, মালেগাঁও রায় টেনে কংগ্রেসের ‘হিন্দু টেরর’ তত্ত্বে তোপ বিজেপির
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘হিন্দুরা সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না’, মালেগাঁও রায় টেনে কংগ্রেসের ‘হিন্দু টেরর’ তত্ত্বে তোপ বিজেপির

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ সংসদ থেকে আদালত—দুই মঞ্চেই নতুন করে মাথাচাড়া দিল মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা এবং তথাকথিত ‘হিন্দু সন্ত্রাসবাদ’ বিতর্ক। বুধবার রাজ্যসভায় অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হিন্দুরা কখনও সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় মোড় নিল মালেগাঁও কাণ্ড।

বৃহস্পতিবার ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর (Pragya Thakur) সহ সাত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করল বিশেষ এনআইএ আদালত। বিচারক একে লাহোটি রায়ে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। এর ফলে কংগ্রেসের ‘হিন্দু সন্ত্রাস’-এর থিওরি ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করছে বিজেপি।

বিজেপি নেতা রবি শংকর প্রসাদ (Ravi Shankar Prasad) বলেন, “এই রায়ে প্রমাণিত হল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সত্যের জয় হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই মেলেনি।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রজ্ঞা ঠাকুরকে পুলিশ হেফাজতে ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল, যার ফলেই তিনি আজ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না।

আরও পড়ুনঃ BLO-দের হুমকির অভিযোগে সরব বিজেপি, রাজ্যসভায় শমীকের নোটিসে তপ্ত রাজনীতি

Advertisement
ads ads

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৭-০৮ সালে ঘটে যাওয়া একাধিক বিস্ফোরণ—সমঝোতা এক্সপ্রেস, হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদ, আজমের শরিফ দরগা ও মালেগাঁও—প্রথমদিকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর দিকে আঙুল তুলেছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম (P Chidambaram) দেশকে ‘গেরুয়া সন্ত্রাস’ থেকে সাবধান থাকতে বলেছিলেন। দিগ্বিজয় সিং (Digvijaya Singh) আরএসএসকেও দায়ী করেছিলেন।

তবে রায়ের পর দিগ্বিজয়ের ভাষা পাল্টে যায়। তাঁর বক্তব্য, “সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই। ধর্মের নামে যারা ঘৃণা ছড়ায়, তারাই প্রকৃত সন্ত্রাসবাদী।” বিচারক একে লাহোটিরও মত, “সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না।”

এই রায় এবং অমিত শাহের সংসদীয় মন্তব্য মিলিয়ে ফের নতুন করে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। বিজেপি মনে করছে, আদালতের রায়ে কংগ্রেসের ‘হিন্দু টেরর’ প্রচার ভেস্তে গেল; অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, সন্ত্রাসবাদীর পরিচয় ধর্ম দিয়ে নয়, প্রমাণ দিয়েই চিহ্নিত হয়।

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads