রাজনীতি
তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশি অ্যাকশন: বর্ধমানে ধৃত কাউন্সিলর সুমিত ও ব্লক সভাপতি বাপ্পা
নির্বাচন পরবর্তী পুলিশি অ্যাকশনে বড় সাফল্য। বর্ধমানে তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে ফেরার থাকা তৃণমূল কাউন্সিলর এবং রায়না ২ ব্লকের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
তোলাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও হুমকির মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগে উত্তপ্ত বর্ধমান। দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। বাড়ি ও জাতীয় সড়ক থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার (Arrest) করেছে পুলিশ। ধৃতদের আজ, রবিবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযান চালিয়ে বাড়ি ও হাইওয়ে থেকে গ্রেপ্তার
ধৃত দুই শাসকদলীয় নেতার নাম সুমিত শর্মা ও সইদ কলিমউদ্দিন ওরফে বাপ্পা। এদের মধ্যে সুমিত শর্মা বর্ধমান পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (Councillor)। তিনি বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। পুলিশের রিপোর্ট (Report) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত সুমিত দীর্ঘ দিন ধরে ফেরার (Absconding) ছিলেন। দিন কয়েক আগে তিনি বর্ধমানের লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকার নিজের বাড়িতে ফিরেছেন— এই খবর গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এরপরই পুলিশ সেখানে অতর্কিত অভিযান (Raid) চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, আগেই বিধায়ক খোকন দাসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ, এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরও শ্রীঘরে গেলেন।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হয়েছেন বর্ধমানের রায়না ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি (Block President) সইদ কলিমউদ্দিন ওরফে বাপ্পা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় ২ নম্বর জাতীয় সড়কে (National Highway) ঘোরাঘুরি করছিলেন তিনি। সেই খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষকে হুমকি ও বেআইনিভাবে টাকা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
রাজ্যজুড়ে পুলিশি অ্যাকশন
সাম্প্রতিক নির্বাচনে শাসকদলের পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, জোরপূর্বক জমি দখল এবং সরকারি প্রকল্পের কাটমানি (Cutmoney) নেওয়ার ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, অপরাধী কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে কোমর বেঁধে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন (Police Administration)। বর্ধমানের এই দুই হেভিওয়েট নেতার গ্রেপ্তারির ঘটনা সেই পুলিশি অ্যাকশনেরই (Action) একটি বড় অংশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
