রাজনীতি
‘ডিম থেরাপি’র পর বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার শওকত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা খয়রুল ইসলাম
২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোটে ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মী খুনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা খয়রুল ইসলামকে বহরমপুর থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শওকত মোল্লার পর এবার শ্রীঘরে তাঁর এই ঘনিষ্ঠ অনুগামী।
এলাকাবাসীর ‘ডিম থেরাপি’ ও গণপিটুনির পর থেকেই কার্যত নিখোঁজ (Missing) ছিলেন তিনি। ভাঙড়ের চেনা এলাকায় বিগত কিছুদিন তাঁর টিকিও দেখা যায়নি। অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার (Arrest) হলেন ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ খয়রুল ইসলাম। তিনি এলাকায় ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ (Close Associate) হিসেবে পরিচিত। রবিবার ভাঙড় ডিভিশনের উত্তর কাশীপুর ও বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ যৌথ অভিযান (Joint Operation) চালিয়ে তাঁকে জালে তোলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election) পরবর্তী হিংসা ও অশান্তির ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের তালিকায় নাম ছিল খয়রুলের। তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙড়ের চকুয়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল পাহাড়ি নামে এক আইএসএফ (ISF) কর্মীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। সেই খুনের মামলার তদন্তের (Investigation) সূত্র ধরেই দীর্ঘদিন ধরে খয়রুলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছুদিন আগেই খয়রুল ইসলামকে এলাকায় দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ডিম থেরাপি’ চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। এই ঘটনার পর থেকেই আইনি ব্যবস্থা ও গণরোষের হাত থেকে বাঁচতে স্রেফ গা ঢাকা (Absconding) দিয়েছিলেন তিনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের (Political Change) পর পুলিশের চিরুনি তল্লাশি থেকে রেহাই পেলেন না তেইশের অশান্তি মামলার এই মূল অভিযুক্ত।
প্রশ্ন উঠছে, ভাঙড় ছেড়ে হঠাৎ কেন বহরমপুরে আস্তানা গেড়েছিলেন খয়রুল? তবে কি রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পালানোর ছক (Escape Plan) কষছিলেন তিনি? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ (Interrogation) শুরু হয়েছে। এই খুনের নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে, তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৬ তারিখ চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের (Blast) ঘটনায় এনআইএ-র (NIA) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্বয়ং শওকত মোল্লা। দু’দিন পলাতক থাকার পর সোনারপুরের কামালগাজি থেকে তাঁকে ধরা হয়েছিল। এর আগে গ্রেপ্তার হন শওকত-ঘনিষ্ঠ শামসুলও। এবার ভাঙড়ের অন্য একটি খুনের মামলায় ধরা পড়লেন খয়রুল। এদিকে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ (Rule of Law) প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুলিশ ও প্রশাসনের এই লাগাতার অ্যাকশন (Action) মুখ্যমন্ত্রীর সেই দাবিরই প্রতিফলন।
