দুর্ঘটনা
কাটোয়ায় বিস্ফোরণে মৃত্যু, তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতার দিকে অভিযোগের আঙুল
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া (Katwa)। শুক্রবার রাতে রাজোয়া গ্রামের (Rajoa Village) এক পরিত্যক্ত বাড়িতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হল এক যুবকের। গুরুতর আহত আর এক জন—তুফান চৌধুরী (Tufan Chowdhury), যিনি মাত্র ১০ দিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ তুফান আবার বালি কারবারে প্রভাব ফেরাতে চেয়েছিল। অভিযোগ, বীরভূমের (Birbhum) নানুর (Nanoor) এলাকা থেকে কিছু ‘বোমা কারিগর’ এনে রাজোয়ার বাড়িতে বিস্ফোরক তৈরি করছিল তুফানের দল। সেই সময়েই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত্যু হয় বরকত সিং (Barkat Singh) নামে এক যুবকের। তুফান নিজেও মারাত্মক জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা অজয় ও ভাগীরথী নদীর চোরাপথে বালি ব্যবসাকে ঘিরেই এই সংঘর্ষ বলে দাবি স্থানীয়দের। চুরপুনি ঘাটে সরকার অনুমোদিত খননের আড়ালে চলে অবৈধ তোলাবাজি। আর সেই বালি কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই নাকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
আরও পড়ুনঃ মালদ্বীপে মোদীকে প্রধান অতিথি! চিন ঘেঁষা নীতি থেকে সরে ভারতমুখী মইজ্জু
ঘটনার পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (Rabindranath Chattopadhyay)। তাঁর দাবি, “এই কারবারের মূল মাথা জঙ্গল শেখ (Jangal Sheikh), যিনি তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর। আমি বহিষ্কার করেছি বলেই ও আমাকে টার্গেট করছিল। তুফান বাইরে থেকে লোক এনে পার্টি অফিসে হামলার ছক করছিল, সেখানেই বিস্ফোরণ।” তিনি আরও বলেন, “পুলিশ সব জানে, কিন্তু কার্যকর কিছু করে না।”
এই ঘটনায় তৃণমূলের একাংশকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিজেপিও। তাঁদের অভিযোগ, “রাজ্য জুড়ে বেআইনি কারবারে শাসক দলের আশ্রয়। পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে চুপ।”
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুতর জখম তুফান বেঁচে ফিরলে বিস্ফোরক মজুত ও বালি কারবার সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জেরা করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকা আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।
