‘সরকারে বলে কিছু করতে পারছি না’— থানার পুলিশকে হুমায়ুনের প্রকাশ্য হুমকি
Connect with us

রাজনীতি

‘সরকারে বলে কিছু করতে পারছি না’— থানার পুলিশকে হুমায়ুনের প্রকাশ্য হুমকি

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে (Liton Halder) ফোনে কুপ্রকাশভঙ্গিতে গালিগালাজ ও হুমকির ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। ওই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বিরোধীরা কেষ্টর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছে প্রকাশ্যে।

তারপর এরই মধ্যে ফের সামনে এল আরও একটি বিতর্কিত ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে (Liton Halder) অশালীন ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) বীরভূম জেলা সভাপতি বিক্রমজিৎ সাউ (Bikramjit Sau)। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রবল চাপের মুখে পড়ে শাসক দল। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতিকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিক্রমজিৎ দাবি করেছেন, ভিডিওটি বেশ পুরনো এবং তিনি তা ইতিমধ্যেই মুছে ফেলেছেন। পাশাপাশি, ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি দলীয় নির্দেশ আসার আগেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। এক দলীয় সভা থেকে তিনি বলেন, “সরকারে থাকার ফলে হাতে-পায়ে বাঁধা রয়েছে। বিরোধী দলে থাকলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে শায়েস্তা করে দিতাম।” তিনি অভিযোগ তোলেন, মুর্শিদাবাদের লালগোলা, সামশেরগঞ্জ ও ভরতপুর থানা এলাকায় পুলিশ কার্যত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। তবে ঠিক কী ধরনের হয়রানি, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বিধায়ক।

আরও পড়ুনঃ হুমকি-কাণ্ডে কঠোর শাস্তি, ৬ বছরের জন্য TMCP নেতা সাসপেন্ড

Advertisement
ads ads

হুমায়ুনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে— তিনি কি পরোক্ষে পুলিশের উপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বার্তা দিচ্ছেন? অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য একদিকে যেমন পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে, অন্যদিকে বাহিনীর নিজস্ব মর্যাদাকেও খর্ব করে।

এই প্রেক্ষাপটে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভাইরাল অডিও-তে তিনি বোলপুর থানার আইসি-কে শুধু গালিগালাজই করেননি, বরং তাঁর পরিবার— মা ও স্ত্রীকেও কুরুচিকর ভাষায় উল্লেখ করেছেন। এমনকী, পুলিশ কোয়ার্টার থেকে টেনে বের করে আইসি-কে হেনস্থা করার হুমকিও শোনা গিয়েছে সেখানে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুলিশের মর্যাদা ও কর্তৃত্ব রক্ষায় এই ঘটনায় যদি কড়া পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও নেতা এমনভাবে পুলিশকে হেনস্থা করে দায় এড়িয়ে যেতে পারেন। তাদের ভাষায়, “এ ধরনের হুমকি যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পায়, তাহলে পুলিশের প্রতি সমাজের আস্থা ভেঙে পড়বে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।”

ফলে এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে— সত্যিই কি কেষ্টর শাস্তি হবে, নাকি ক্ষমা প্রার্থনা করেই থেমে যাবে গোটা ঘটনা? একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য নিয়েও কি দল বা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেবে?

Advertisement
ads ads
Continue Reading
Advertisement ads