আইন পড়ুয়ার গ্রেফতার নিয়ে কঙ্গনার তোপ: ‘বাংলাকে উত্তর কোরিয়া বানাবেন না’
Connect with us

অপারেশন সিঁদুর

আইন পড়ুয়ার গ্রেফতার নিয়ে কঙ্গনার তোপ: ‘বাংলাকে উত্তর কোরিয়া বানাবেন না’

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-পাক সীমান্তে সেনা অভিযানের সমর্থনে করা মন্তব্যকে ঘিরে গ্রেফতার হতে হল এক তরুণী আইন পড়ুয়াকে। ২২ বছর বয়সী শর্মিষ্ঠা পানোলি (Sharmistha Panoli)-কে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’-এর অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেফতার করেছে গুরগাঁও থেকে। কলকাতার আদালতের নির্দেশে তাঁকে পাঠানো হয়েছে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে। এবার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে উত্তর কোরিয়া বানানোর চেষ্টা করবেন না।”

রবিবার এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় কঙ্গনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে শর্মিষ্ঠাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, “শর্মিষ্ঠা নিজের বক্তব্যের জন্য ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভিডিওটি মুছে ফেলেছেন। এর পরেও তাঁকে গ্রেফতার, বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো, এমনকি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন অত্যন্ত অনৈতিক।”

তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেয়েকে জেলে পুরে তাঁর কেরিয়ার ধ্বংস করা গণতন্ত্রের লজ্জা। তরুণ প্রজন্ম অনেক সময় ইংরেজি বা হিন্দি শব্দের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে থাকে। আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এভাবে একজন মেয়েকে নিশানা করা উচিত নয়।”

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারে বলে কিছু করতে পারছি না’— থানার পুলিশকে হুমায়ুনের প্রকাশ্য হুমকি

Advertisement
ads

উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন শর্মিষ্ঠা দেশের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। পাশাপাশি, বলিউড তারকাদের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর কথাবার্তার কিছু অংশ ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কলকাতা পুলিশ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার। ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। #AllEyesOnSharmishta হ্যাশট্যাগে চলছে প্রচার। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya) অভিযোগ করেন, “একজন তরুণী একটি ভিডিও পোস্ট করে মুছে দিয়েছেন, ক্ষমাও চেয়েছেন। তারপরও তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অথচ ভিডিওতে কোথাও সাম্প্রদায়িক উস্কানি নেই। এটা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং ভোটমুখী প্রতিহিংসার রাজনীতি।” এছাড়াও বিজেপির আরও একাধিক নেতা এবং বহু সাধারণ মানুষ শর্মিষ্ঠার মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।

Advertisement
ads

পাশাপাশি, শাসক দলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। তাঁদের প্রশ্ন— “শুধু বিজেপি ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধেই কি এভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়? তৃণমূলের কেউ ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে পুলিশ কি একইভাবে সক্রিয় হয়?”

প্রসঙ্গত, কঙ্গনার বক্তব্যে ‘উত্তর কোরিয়া’ প্রসঙ্গ তুলে অনেকে কিম জং উনের (Kim Jong Un) একনায়কতন্ত্রের ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা নতুন করে রাজ্য বনাম কেন্দ্র উত্তেজনায় ঘৃতাহুতি দিতে চলেছে।

Continue Reading
Advertisement