হামলা
যুদ্ধ আবহে সতর্ক ভারত, সাময়িকভাবে বন্ধ ২৫টিরও বেশি বিমানবন্দর
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (Ministry of Defence) নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২৫টি বিমানবন্দরে (Airports) সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, পাকিস্তান (Pakistan) একের পর এক উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। তারই জবাবে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। বাতিল করা হয়েছে অমৃতসর (Amritsar), শ্রীনগর (Srinagar), লুধিয়ানা, কিশনগড়, ভুনতার (Bhuntar-Kullu) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক উড়ান। আগামী শনিবার পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক (Ministry of Civil Aviation)।
‘নোটিস টু এয়ারম্যান’ (NOTAM) জারি করে অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, বিমান যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। এতে একাধিক বেসরকারি বিমান সংস্থা যেমন ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস (Air India Express) ইতিমধ্যেই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। শুধু ইন্ডিগো একাই এক দিনে ১৬৫টি উড়ান বাতিল করেছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাক- প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভারতীয় ড্রোন হামলা! ভারতের পাল্টা হানায় কাঁপছে পাকিস্তান
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে। পাকিস্তানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল জম্মু, রাজৌরি, শ্রীনগর, পাঠানকোট, জলন্ধর এবং জয়সলমেরের মতো সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকাগুলি। তবে ভারতীয় বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Air Defence System) তৎপরতায় প্রতিটি হামলাই ব্যর্থ হয়।
নিরাপত্তার কারণে যাত্রীদের জন্য আলাদা নির্দেশনাও জারি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া ও আকাশা এয়ার (Akasa Air)। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রার তিন ঘণ্টা আগে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। দ্বিতীয় স্তরের তল্লাশি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একজন যাত্রী একটির বেশি হাতব্যাগ বহন করতে পারবেন না।
অসামরিক বিমান পরিবহন দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “নাগরিক সুরক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা অনিবার্য হলেও, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।”
প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তান যেভাবে বিনা উসকানিতে ভারতের সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করেছে, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাল্টা জবাব দিতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাহিনী কার্যকর প্রতিরক্ষা এবং হামলার কৌশল অবলম্বন করেছে।
এই মুহূর্তে সীমান্তে সেনা মোতায়েন আরও বাড়ানো হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রশাসনের তরফে দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং সরকার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
