হামলা
কাশ্মীরি জঙ্গি নেটওয়ার্কের পুরোনো খেলোয়াড়, ফের সক্রিয় ফারুক তিড়ওয়া
ডিজিটাল ডেস্কঃ কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার তদন্তে উঠে এল নতুন নাম—লস্কর-ই-তইবার বর্ষীয়ান কম্যান্ডার ফারুক আহমেদ তিড়ওয়া। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হামলার রণকৌশল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল এই জঙ্গি নেতা, যার শিকড় বহু বছর ধরেই ছড়িয়ে রয়েছে সীমান্তের দু’ধারে।
জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, পহেলগামের বৈসরনে জঙ্গি হামলার পরবর্তী তদন্তে স্থানীয় স্তরের সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসে ফারুকের নাম। এই সহযোগীরা, যাঁদের ‘ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ (OGW) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, হামলার আগে ও পরে জঙ্গিদের গোপন চলাচলে সহায়তা করেছিল বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
সূত্রের দাবি, উপত্যকার ২,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজনের মধ্যে ১৫ জনকে কেন্দ্র করে তদন্ত এখন কেন্দ্রীভূত। তাঁদের একাধিক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, পাকিস্তান ঘাঁটিতে থাকা ফারুকের সঙ্গেই হামলার মূল সমন্বয় হয়েছিল। এর আগে লস্কর-ই-তইবার ‘নাম্বার টু’ সইফুল্লা কসৌরির নাম হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উঠে এলেও, এখন তদন্তের ফোকাসে ফারুক।
আরও পড়ুনঃ ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পরও জবাব নেই, পাক রেঞ্জার্সের হেফাজতে ভারতের জওয়ান
গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয় ফারুক। এরপর থেকে বারবার সীমান্ত পেরিয়ে সে উপত্যকায় ঢুকে নাশকতার ছক কষেছে। বিশেষ করে লস্করের স্থানীয় ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ অত্যন্ত সুসংহত। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে কার্যত নির্দেশ দিয়ে চলে।
সীমান্ত অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান তদন্তকারীদের চিন্তিত করেছে। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, সীমান্ত পেরোনোর জন্য তিনটি নির্দিষ্ট রুট সে ব্যবহার করে। তার ‘স্লিপার সেল’ নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র কাশ্মীরেই নয়, দেশের অন্য প্রান্তেও সক্রিয় বলে ধারণা।
এই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাশিম মুসার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে ফারুকের। ধারণা, পহেলগামের হামলার পুরো পরিকল্পনাই ওই দুই জঙ্গি নেতার তৈরি। শুধু তাই নয়, দেশের সেনা ও পুলিশ আধিকারিকদের লক্ষ্য করে ভবিষ্যতের হামলার যে নীলনকশা তৈরি হচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে এই তিড়ওয়া।
