ভাইরাল খবর
ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পরও জবাব নেই, পাক রেঞ্জার্সের হেফাজতে ভারতের জওয়ান
ডিজিটাল ডেস্কঃ সীমান্ত পেরনোর ‘ভুলে’ পাকিস্তানের হাতে বন্দি হয়ে রয়েছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) জওয়ান পিকে সাহু। ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সীমান্তে। ইতিমধ্যেই এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি পাকিস্তান। সাতটি ফ্ল্যাগ মিটিং, একাধিক আলোচনার পরও ভারতীয় জওয়ানের দেশে ফেরা এখনও অনিশ্চিত।
সূত্রের খবর, ১৮২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ওই বিএসএফ জওয়ান টহলদারির সময় সীমান্তের খুব অল্প অংশ পেরিয়ে পাকিস্তানের দিকে চলে যান। এমন ঘটনা সাধারণত দুই দেশের মধ্যে তৎক্ষণাৎ সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পাকিস্তান রেঞ্জার্স প্রথম থেকেই মুক্তি দিতে অস্বীকার করছে। বারবার দাবি করা হচ্ছে— “উর্ধ্বতন দফতর থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁকে ছাড়া যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ পাক সীমান্ত পেরিয়ে আটকে পড়লেন বাংলার বিএসএফ জওয়ান, মুক্তির জন্য তৎপর রাজ্য
বিএসএফ-এর এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, “প্রতিদিনই বৈঠক হচ্ছে। কিন্তু ওদের জবাব একই— নির্দেশ আসেনি। এটা সাধারণ ঘটনা, যা অতীতে একাধিকবার দুই পক্ষের ক্ষেত্রেই ঘটেছে এবং দ্রুত সমাধানও হয়েছে। কিন্তু এবার পাকিস্তানের অবস্থান সন্দেহজনক।”
এই অজুহাতেই সপ্তাহ পার করে ফেলেছে ইসলামাবাদ। ভারতীয় প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে পাকিস্তান। পহেলগাম হামলার পরে ভারত-পাক সম্পর্কের পারদ চড়ছে ক্রমাগত। তার মধ্যেই বিএসএফ জওয়ানকে আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পিকে সাহুকে আটকের পর প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট করে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের সময় বরাদ্দ করছে পাকিস্তান। প্রতিটি মিটিংয়েই একই ধরনের প্রতিক্রিয়া মিলছে তাদের পক্ষ থেকে— “উচ্চ মহল এখনও নির্দেশ দেয়নি।”
সীমান্তের এমন অচলাবস্থায় ক্ষোভ বাড়ছে বিএসএফ শিবিরে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি উঠছে। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে— জওয়ান ভুলক্রমে সীমান্ত পেরিয়েছিলেন এবং বিষয়টি দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের অনমনীয় আচরণ এখন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে তাদের কূটনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই।
