কলকাতা
সংবিধান প্রণেতাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির অভিনব উদ্যোগ
ডিজিটাল ডেস্কঃ ১৪ এপ্রিল, সংবিধান প্রণেতা ডঃ ভিমরাও রামজি আম্বেদকরের ১৩৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সারা দেশজুড়ে পালিত হল নানা কর্মসূচি। শ্রদ্ধার্ঘ্য, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সবাই। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং ত্রিপুরার প্রদেশ কংগ্রেস ভবন—প্রতিটি জায়গাতেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
হেমতাবাদে বিজেপির শ্রদ্ধার্ঘ্যঃ
উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদে বিজেপির কার্যালয়ে আয়োজিত হয় বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি। ডঃ আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি ভানুরাম বর্মন ও দিলীপ বর্মন, মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার দাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতারা আম্বেদকরের সংবিধান প্রণয়নের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণীর অধিকার রক্ষায় তাঁর সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
আরও পড়ুনঃবহু প্রতীক্ষার অবসান! আজ কালীঘাটে স্কাইওয়াক উদ্বোধন, উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী
গাজোলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাঃ
মালদহ জেলার গাজোলে ‘গাজোল মূলনিবাসী কল্যাণ সমিতি’-র উদ্যোগে পালিত হয় আম্বেদকর জয়ন্তী। অনুষ্ঠানে বাবাসাহেবের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার পাশাপাশি আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বহু সংখ্যক টোটো ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে কদুবাড়ি এলাকার রাস্তা হয়ে শোভাযাত্রা পরিক্রমা করে। আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে আম্বেদকরের আদর্শ পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
বালুরঘাটে যুব তৃণমূলের শ্রদ্ধার্ঘ্যঃ
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট রঘুনাথপুর মোড়ে অবস্থিত আম্বেদকরের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন যুব তৃণমূল জেলা সভাপতি অম্বরিশ সরকার, বালুরঘাট পৌরসভার কাউন্সিলর মহেশ পারাখ, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, “আম্বেদকরের সামাজিক ন্যায়ের ধারণা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
আগরতলায় কংগ্রেস ভবনে মর্যাদায় উদযাপনঃ
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় বাবাসাহেব ডঃ ভিমরাও আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। ডঃ আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান সকলে।
এই উপলক্ষে আশীষ সাহা বলেন, “বাবাসাহেব ছিলেন ভারতের সংবিধানের স্থপতি এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের মুক্তির পথপ্রদর্শক। তিনি সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর অবদান জাতি কখনও ভুলবে না।” তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মের উচিত তাঁর আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা, যাতে সমাজে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।”
